নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুনর্গঠিত হয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অ্যাড-হক কমিটি। কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের বদলে নতুন সভাপতি হয়েছেন রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (বারাসত) সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক। পর্ষদের সভাপতি হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের দায়িত্বগ্রহণের নজির সম্প্রতি নেই। কিন্তু সভাপতি হওয়ার পরেই তার থেকেও বড় নজির গড়েছেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত নিয়ে যখন তোলপাড় রাজ্য, তার মধ্যেই নতুন সভাপতি সম্বর্ধনা নিতে চলে গিয়েছেন তৃণমূল পার্টি অফিসে।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ, কমিশনের কাছে রিপোর্ট তলব করল হাই কোর্ট


SSC নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাঁর বদলে অধ্যাপক রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় নেতৃত্বে তৈরি করা হয়েছে ৯ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। তাঁরাই পরিচালনা করবেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এদিকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এমনিতেই নিশানায় এসেছে রাজ্যের শাসকদল। বারবার নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূলের উপর আঙুল উঠেছে। সেই তৃণমূল অফিসেই কিনা পর্ষদ সভাপতি!

নতুন সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়কে তৃণমূলের (TMC) দলীয় কার্যালয়ে দেখা গিয়েছে। শাসকদলের লোকজন মিলে তাঁকে সম্বর্ধনাও দিয়েছেন। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূলের কার্যালয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতির এই উপস্থিতিতে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পিছনে ২১ জুলাই, তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’-এর ব্যানার ঝুলছে। তার উপরে লেখা তৃণমূল-কংগ্রেস। ঠিক তার সামনে দাঁড়িয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি।



সভাপতির আশেপাশে শাসকদলের লোকজন। তাঁর গলায় ঝুলছে তেরঙ্গা উত্তরীয়। হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে সকলের সম্বর্ধনা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ একটি স্বতন্ত্র সংস্থা, তার সঙ্গে তাঁদের ক্ষমতাসীন সরকারের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করতে দেখা যায় দলের লোকজনকে। তাই প্রশ্ন উঠছে, স্বশাসিত সংস্থার পদে থেকেও কীভাবে রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে গেলেন মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি?
তৃণমূল পার্টি অফিসে সম্বর্ধনা পর্ষদ সভাপতির, ‘বিষয়টি ব্যাক্তিগত’ বক্তা রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়।

তবে নিজের পক্ষে সাফাই দিতে দেরি করেননি নয়া সভাপতি। তিনি বলেছেন, “বিষয়টি অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমার সতীর্থ শিক্ষক বন্ধুরা সম্বর্ধনা দিয়েছেন। আমি শিক্ষকদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা নিয়েছি। পদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। এটি একেবারেই ব্যাক্তিগত স্তরের বিষয়!”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



