তপ্ত বৈশাখের দুপুর, রাস্তায় আগুন ঝরছে—তবুও থামেননি তিনি। বয়স আশি পেরিয়েছে, শরীর দিচ্ছে না আগের মতো সাড়া, কিন্তু রাজনৈতিক দায়বদ্ধতায় একচুলও ছাড় নেই। হাতে লাল ব্যাগ, পরনে সাদামাটা সুতির শাড়ি—সল্টলেক থেকে দমদম, একের পর এক এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন রমলা চক্রবর্তী। এই দৃশ্য এখন শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এক ধরনের বার্তা—লড়াই এখনও বাকি।
প্রয়াত সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী-র সহধর্মিণী হিসেবে দীর্ঘদিন আড়ালেই ছিলেন তিনি। কিন্তু দল কঠিন সময়ে পড়তেই যেন নতুন করে ময়দানে নেমেছেন রমলাদেবী। নিয়ম করে প্রায় প্রতিদিনই সল্টলেকের এফডি ব্লকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জনসংযোগ করছেন। বয়সের ভারে হাঁটার গতি কমলেও, মানুষের দরজায় পৌঁছে কথা বলার ইচ্ছেটুকু অটুট।


সোমবার সকালে সল্টলেকে প্রচারের সময় এক প্রাক্তন শিক্ষিকা রীতা চৌধুরীর মন্তব্যে উঠে আসে আবেগ—‘সুভাষদা থাকলে এই রাস্তার অবস্থা দেখে কষ্ট পেতেন।’ জবাবে রমলাদেবীর সরল অথচ রাজনৈতিকভাবে তীক্ষ্ণ মন্তব্য—‘এই কারণেই তো বদল প্রয়োজন।’
শুধু জনসংযোগ নয়, দমদমের কর্মিসভাতেও দেখা গিয়েছে তাঁর সেই চেনা দৃঢ়তা। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব—বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “দলের দুঃসময়ে ঘরে বসে থাকার সময় নয়। লড়াইটা বুথে বুথে পৌঁছে দিতে হবে।”
দলের অন্দরেই শোনা যাচ্ছে, রমলাদেবীর এই সক্রিয়তা অনেকটা ‘অক্সিজেন’-এর মতো কাজ করছে নিচুতলার কর্মীদের কাছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী অরুণাভ ঘোষের হয়ে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।


বিধাননগরের সিপিএম প্রার্থী সৌম্যজিৎ রাহা মনে করেন, রমলাদির উপস্থিতি কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণ। তাঁর কথায়, “রমলাদির মতো অভিজ্ঞ নেত্রী যখন এই বয়সেও রাস্তায় নামেন, তখন আমাদের লড়াইয়ের শক্তি বেড়ে যায়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে রমলাদেবীর গ্রহণযোগ্যতা এখনও যথেষ্ট দৃঢ়। সেই প্রভাব ভোটবাক্সেও পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।








