এক সময় যাঁর সংলাপে হাসির রোল উঠত প্রেক্ষাগৃহে, সেই জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতার জীবনে ফের নেমে এল কঠিন বাস্তবতা। কোটি কোটি টাকার ঋণ শোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ না করায় আবার জেলে যেতে হচ্ছে বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব-কে। মঙ্গলবার Delhi High Court স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—চেক বাউন্স মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন অভিনেতা, তাই বুধবার তাঁকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে।
দীর্ঘদিন ধরে জামিনে মুক্ত ছিলেন রাজপাল যাদব। আদালতে তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, মামলাকারীদের টাকা ফেরত দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তাঁর প্রতি নমনীয় মনোভাব নিয়েছিল আদালত। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় মঙ্গলবার আদালত জানিয়ে দেয়—আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না। ২০২৪ সালের জুনে ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে সেই সুবিধা প্রত্যাহার করা হল।


এই মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালের এপ্রিলে। তখন এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চেক বাউন্স মামলায় রাজপাল যাদবকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের সাজা দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে তিনি ও তাঁর স্ত্রী দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন। ফলে তখন সাজা স্থগিত হয়। ২০২৪ সালে ফের তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও, আদালত আশা করেছিল—মামলাকারীদের সঙ্গে সমঝোতা করে বা বকেয়া অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি করবেন অভিনেতা।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে রাজপাল যাদব প্রায় দেড় কোটি টাকা ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে জমা দিয়েছেন। এখনও প্রায় ৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া বাকি রয়েছে। এই দীর্ঘ বিলম্বই শেষ পর্যন্ত আদালতের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল।
বর্তমানে কাজের সূত্রে মুম্বইয়ে রয়েছেন অভিনেতা। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৪টার মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে। এর আগেও তিন দিন তিহাড় জেল-এ কাটিয়েছেন রাজপাল যাদব। এবারও তাঁর ঠিকানা যে তিহাড়ই হতে চলেছে, তা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি হবে দিল্লি হাই কোর্টে। সেখানে রাজপাল যাদবের পরবর্তী আইনি ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।







