নজরবন্দি ব্যুরো: পঞ্চায়েত মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশের পরই ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে চিঠি কমিশনের। ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি দিয়েছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা। এর আগে ২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের পর নির্দেশকে মান্যতা দিয়েই আরও ৮০০ কোম্পানি বাহিনী চাওয়া হল।
আরও পড়ুন: এভাবে কমিশনারকে সরানো যায় না, বিতর্কের মাঝেই সরব মুখ্যমন্ত্রী
বুধবার কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পঞ্চায়েত মামলার শুনানি চলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের এজলাসে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জেলাপ্রতি এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে চিঠি দিয়েছিলেন। এনিয়ে বিরোধীরা দাবি করেছিল, এত কম সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট সম্ভব নয়। একই পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির। ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটের প্রসঙ্গ তুলে এনে হাইকোর্ট জানায় ২০২৩ সালে অন্তত ৮২ হাজার জওয়ান মোতায়েন করতে হবে। গতকাল নির্বাচন কমিশনারকে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে মামলা দায়ের করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মনোনয়ন পর্বে অশান্তি জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাংলার একাংশ। এরপরই কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। শুরু থেকেই রাজ্য পুলিসের উপর ভরসা ছিল কমিশনের। বাইরের পাঁচ রাজ্য থেকেও পুলিশ আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে গেলেও বিশেষ সুবিধা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নির্দেশ পুনর্বহাল করে শীর্ষ আদালত।

উল্লেখ্য, বুধবার কমিশনার রাজীব সিনহার জয়েনিং লেটার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি রাজীব সিনহাকে তাঁর পদ থেকে সরে যেতে হবে? এনিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ পাটনার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “এভাবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনওদিন সরানো যায় না। সরাতে হলে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে সরাতে হয়। “রাজীব সিনহাকে নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগের ফাইলে রাজ্যপালই সই করেছিলেন। কেউ তাঁর উপর চাপিয়ে দেয়নি। ফলে এভাবে কোনওদিন নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত করা যায় না।”
হাইকোর্টের নির্দেশের পরই ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে চিঠি কমিশনের, চিঠি দিলেন রাজীব সিনহা




