রাহুল লড়লেও শেষরক্ষা নয়! মিচেলের ব্যাটে ডুবল ভারত, রবিবারের ‘ফাইনাল’-এর আগে বড় চিন্তায় বোলিং বিভাগ

রাজকোটে রাহুলের শতরানেও হার ভারত। রোহিত-কোহলির ব্যর্থতা আর মিচেলের অপরাজিত ১৩১ রানে সিরিজে সমতা নিউজিল্যান্ডের। ফাইনালের আগে বোলিং চিন্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজকোটে লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করেছিলেন লোকেশ রাহুল, কিন্তু শেষ হাসি হাসলেন ড্যারেল মিচেল। একদিকে ব্যর্থ রোহিত-কোহলি-শ্রেয়স, অন্যদিকে দাঁতহীন বোলিং—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ভারতের ২৮৪ রানও যে নিরাপদ নয়, তা আবার প্রমাণ করল নিউজিল্যান্ড। সিরিজে সমতা ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে রবিবারের ‘ফাইনাল’-এর আগে ভারতীয় শিবিরে বাড়াল প্রশ্নচিহ্ন—বিশেষ করে কুলদীপ-সিরাজদের নিয়ে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ইনিংস শুরু থেকেই ছিল টালমাটাল। রোহিত শর্মা ২৪ এবং বিরাট কোহলি ২৩ রান করে ফেরায় টপ অর্ডার ফের মুখ থুবড়ে পড়ে। **শ্রেয়স আইয়ার**ও (৮) ভরসা দিতে পারেননি। একমাত্র দায়িত্ব নিয়ে খেলেন অধিনায়ক শুভমন গিল—৫৩ বলে ৬৫ রান করে মনে করিয়েছিলেন বড় ইনিংস আসছে। কিন্তু কাইল জেমিসনের বলে মারতে গিয়ে তাঁর বিদায়ে ভারত পড়ে যায় ১১৮/৪-এ।

সেই চাপের মুহূর্তে আবারও নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করলেন লোকেশ রাহুল। তাড়াহুড়ো নয়, ঝুঁকিহীন ব্যাটিং—অসমান বাউন্সের পিচে কখন গতি বাড়াতে হবে, কখন কমাতে হবে, সবটাই মেপে খেললেন। এক প্রান্তে উইকেট পড়লেও মাথা ঠান্ডা রাখলেন। ৯২ বলে অপরাজিত ১১২ রান—১১টি চার ও একটি ছয়ে সাজানো ইনিংস—ভারতকে এনে দিল ৭ উইকেটে ২৮৪। রাজকোটের পিচে যাকে খারাপ বলা যায় না।

কিউয়ি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক (৩/৫৬)। ব্রেসওয়েল, লেনক্স ও ফক্স একটি করে উইকেট নিলেও ভারতের ইনিংস থামাল মূলত নিজেদের ভুলই।

কিন্তু ম্যাচের গল্প ঘুরে গেল নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও উইল ইয়ং ও ড্যারেল মিচেল জুটিতে ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয় ভারতের। অসমান বাউন্স সামলে দু’জনেই খেললেন সাবলীল ক্রিকেট। ১৬২ রানের জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব, ইয়ংয়ের ৮৭ রানের ইনিংস থামিয়ে। তবে ততক্ষণে ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।

ইয়ং আউট হওয়ার পর গ্লেন ফিলিপসকে সঙ্গে নিয়ে কাজ শেষ করেন মিচেল। ১১৭ বলে অপরাজিত ১৩১ রান—১১টি চার ও ২টি ছয়—ভারতীয় বোলারদের অসহায় করে দেয়। ফিলিপসের ৩২ রানের ক্যামিও চাপ আরও কমায়। ৪৭.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ২৮৬ তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ জিতে নেয়।

বোলিংয়ে ভারতের চিত্রটা উদ্বেগজনক। বুমরাহহীন আক্রমণ কার্যত নিষ্প্রভ। কুলদীপ ১ উইকেট পেলেও দিলেন ৮২ রান, সিরাজ-হর্ষিত-প্রসিদ্ধ কেউই ধারাবাহিক চাপ তৈরি করতে পারলেন না। উইকেটের সুবিধা কাজে লাগানোর মতো পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। ফলে রবিবারের সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের আগে গৌতম গম্ভীরের চিন্তা বাড়ছে—বিশেষ করে বোলিং কম্বিনেশন ও আক্রমণের ধার নিয়ে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত