পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, আর তার প্রভাব পৌঁছে যাচ্ছে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত—এই আশঙ্কার মাঝেই কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা নিয়ে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আমেরিকার হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনার পর বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন তিনি। রাহুলের দাবি, এই পরিস্থিতি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena-তে হামলা চালায় আমেরিকার একটি সাবমেরিন। ঘটনাটি ঘটে শ্রীলঙ্কার বন্দর শহর গলের কাছাকাছি, প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে। জাহাজটিতে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।


হামলার পর এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিল জসিংহে জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং এখনও ১৪৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের খোঁজে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান চলছে।
এই ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, যুদ্ধের প্রভাব এখন ভারতের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ এখন ভারতের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে।” সেই কারণেই নয়াদিল্লির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাহুলের অভিযোগ, এত বড় একটি আন্তর্জাতিক ঘটনার পরও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। তাঁর মতে, ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করা প্রয়োজন।


ইরান ইতিমধ্যেই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাহুল। ইসলামিক ন্যাশনাল গার্ড কর্পসের প্রধান ইব্রাহিম জাবারি হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান থেকে কোনও তেল বাইরে যেতে দেওয়া হবে না এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি সরবরাহও প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, এমন সময় দেশের নেতৃত্বের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে রাহুল বলেন, “এই সময়ে আমাদের এমন নেতা দরকার যিনি দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতির হাল ধরতে পারবেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আপসকামী’ নীতি ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই ভারতের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিলেন বিরোধী দলনেতা।







