সামনেই বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। আর এই দুর্গাপূজো শুধুমাত্র পূজো নয়। এটা একটা উৎসব। বহু মানুষের রুজি রোজগার নির্ভর করে এই পূজোর উপরে। কিন্তু এবারের পুজো অন্যরকম। আর জি কর কাণ্ডে উত্তাল শহর থেকে রাজ্য। এর প্রভাব পড়েছে উৎসবের উপর। পুজোকে কেন্দ্র করে নিজের ইনকামের জন্য যেমন বহু মানুষ তাকিয়ে থাকেন তেমনি এই পুজোর কয়েকদিন নিজেদের অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে থাকেন সংগীতশিল্পীরা।
আগে পূজোর এ্যালবাম বেরত।তখন শহরের ক্যাসেটের দোকানগুলিতে ভিড় জমতো।পোশাক কেনার পাশাপাশি পুজোর সময় নতুন গানের অ্যালবাম মানুষ কিনতো। কিন্তু এখন সেসব অতীত। ক্যাসেট সিটির জামানা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই পূজোর সময় সংগীত শিল্পীদের রোজকারের মূল উৎস পুজোর অনুষ্ঠান। কিন্তু এবছর আর জি কর কাণ্ডে তার ভাটা পড়েছে। বাতিল হয়েছে অনেক অনুষ্ঠানও। শিল্পীদের রোজগারের উপরেই কেন কোপ পড়বে?


প্রশ্ন করলেন গায়িকা জোজো। তিনি বলেন, “কিছু হলেই, প্রথমে কেন শিল্পীদের উপরে কোপ পড়ে? মানুষ মনে করেন, এটা শুধুই মনোরঞ্জনের জায়গা। একজন শিল্পী হয়তো এক লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি এটা একার জন্য নিচ্ছেন না। গোটা সেটআপের জন্য নিচ্ছেন।” অপর দিকে এই পুজোর অনুষ্ঠান বাতিল হয়েছে গায়ক রূপঙ্কর বাগচীর।
তিনি এই নিয়ে বলেন, “আমাদের পেশাটাই এমন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে তো আমাদের কাজটা আসে না। অর্থাৎ, আমরা কাজ না করলে, মানুষের চলবে না, এমন নয়। তাই এই পেশায় থাকতে গেলে এই ঝুঁকিটা থাকবেই। মহামারি বা দুর্যোগের সময়ে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতেই হবে।”
আবার এই একই সমস্যায় শিল্পী লোপামুদ্রা মিত্র। তিনি এই নিয়ে বলেন, “মানুষ বুঝতে পারছেন না, এটা একটা পেশা। এখান থেকে বহু মানুষের পেট চলে। সঙ্গীত জগতের বহু শিল্পী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এটা মানুষের বোঝা দরকার। আমরা বছর তিরিশের বেশি গান গাইছি। তাই আমাদের উপরে হয়তো সরাসরি প্রভাব পড়ছে না। কিন্তু আমার সঙ্গে যে যন্ত্রশিল্পীরা আছেন, তাঁরা কিন্তু বেশ চিন্তিত”। সব মিলিয়ে এবার মা দুর্গার আগমনে বাংলা বেশ ম্রিয়মাণ। আর তার প্রভাব পড়েছে সব কিছুর উপরে।









