রণনীতি ঠিক করি, তৃণমূলের রাশ সম্পূর্ন মমতার হাতেই, মন্তব্য প্রশান্ত কিশোরের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রণনীতি ঠিক করি, তৃণমূলের রাশ সম্পূর্ন মমতার হাতেই, একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা স্পষ্ট জানিয়েছেন ঘাসফুল শিবিরের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। গত কয়েকমাসে বাংলায় রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হয়েছে, তার থেকে কম আলোচনা হয়নি তৃনমুলের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়ে। বিভিন্ন সময়ে একাধিক দলত্যাগী নেতাদের কথায় বা তার একাধিক মন্তব্যে প্রায় সবসময়ই খবরের শিরোনামে থেকেছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ মমতার পরে এবার রাহুল সিনহা! ৪৮ ঘন্টা প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন

এক সময়ের সরাসরি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রশান্ত কিশোর এখন ভোট কুশলী। এর আগেও ভিন রাজ্যে রাজনৈতিক দলের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে এখন বাংলায় তিনি এবং তাঁর সংস্থা আইপ্যাক। রাজ্যের বিধানসভা ভোটের নকশা সাজিয়েছেন তৃণমূলের হয়ে। তার সঙ্গে কাজ করবেন পাঞ্জাবের নির্বাচনেও। তবে কয়েকদিন আগে একটি সাক্ষাৎকারে কিশোর জানিয়েছিলেন, আবার রাজনীতিতে সরাসরি ফিরতে চান তিনি। যদিও কোন দলের হয়ে কবে ফিরবেন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সে বিষয়ে খোলসা করে বলেননি কিছুই।

বাংলায় শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন তিনি। একাধিক বার একাধিক দলত্যাগী নেতা তার ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মমতার জন্যে দল করেন অথচ দল চালাচ্ছেন অভিষেক-প্রশান্ত, এই  অভিযোগ উঠেছিল বারবার। অনেকে বলেছিলেন বাইরে থেকে আসা একজনের কথা শুনে চলতে পারবেন না, কেউ বা আবার দাবী করেছিলেন, দল ভালবেসে করেন তাঁরা, বাইরের কারোর কথা শুনতে নারাজ।

তাঁর পাশাপাশি একাধিক নেতা মন্ত্রী দলত্যাগ করার পর আক্রমণ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রিরাও একাধিক বিষয়ে তোপ দেগেছেন অভিষেককে নিয়ে, সে বিষয়েও ভোট কুশলী মনে করছে, আসলে বিজেপি নেতারা মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা লোঠা যাবে না। বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক আক্রমণ করা হলে লাভ হবে। তাই ওঁরা ‘ভাইপো’কে আক্রমণের পথে হেঁটেছেন।

মুখ খুলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দলের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়েও,  তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল এবং প্রশাসনের কাজে শেষ সিদ্ধান্ত নেন দলনেত্রীই। তাঁর মতে, “তৃণমূল কীভাবে বিধানসভা ভোটে লড়াই করবে, কোন-কোন ইস্যুকে সামনে রেখে লড়বে, তার রণনীতি ঠিক করেছি আমরা। কিন্তু সাংগঠনিক কাজকর্মে কিংবা দলীয় প্রার্থী ঠিক করার ক্ষেত্রে কোনও হস্তক্ষেপ করিনি। কারণ দল কীভাবে চলবে কিংবা কারা প্রার্থী হবেন, তা ঠিক করা আমাদের কাজ ছিল না।”

রণনীতি ঠিক করি, তৃণমূলের রাশ সম্পূর্ন মমতার হাতে্প্র‌  এর সঙ্গেই এতদিন ধরে যেসব দলত্যাগী নেতা মন্ত্রীরা তাঁকে নিশানা করেছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি জানিয়েছেন, “গত দেড় বছর ধরে তৃণমূলের একাংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিলেন। সাংগঠনিক কাজকর্ম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ওই সব সুবিধাবাদী নেতাদের চরিত্র বুঝতে পেরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বও তাঁদের বিভিন্ন পদ থেকে হঠিয়ে দিয়ে ক্ষমতা সঙ্কুচিত করেছিল। যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁরা কার্যত অকৃতজ্ঞ। গত দশ বছর ধরে ক্ষমতা ভোগ করার পরে ভোটের মুখে দল বদল করেছেন। আগে পদ ছাড়েননি কেন সেই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে।”

 

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত