নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা তুঙ্গে, কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বামেদের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ কানহাইয়া কুমার। জল্পনা শুরু হয়েছিল প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই। রাজনৈতিক মহলের মতে এই মুহুর্তে যদি দেশের রাজনীতির মাঠ ময়দানকে হাতের তালুর মতো কেউ চেনেন, তিনি হলেন প্রশান্ত কিশোর।
আরও পড়ুনঃ সংগঠন সামলাবেন তিনি, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হলেন অর্পিতা ঘোষ
নিজের রাজনৈতিক জীবন থেকে একাধিক রাজ্যের ভোট কুশলীর পদে থাকা এবং সাফল্য পাওয়া ওজন বাড়িয়েছে কিশোরের। বাংলার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই দেশের লক্ষ্যে ছক কষছেন তিনি। বেশ কয়েকবার রাহুল গান্ধী সহ কংগ্রেসের একাধিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তিনি। গত মাসেই খবর ছিল রাহুলের হাত শক্ত করতে কংগ্রেসের হাত ধরবেন প্রশান্ত।

তার পরেই তাঁর সঙ্গে কানহাইয়ার বৈঠক। তখনই একাধিক মহল থেকে বলা হয়েছিল কংগ্রেসের দল ভারী করতেই কানহাইয়াকে দলে টানতে চাইছেন তিনি। সম্প্রতি রাহুলের সঙ্গে বাম ছাত্র নেতার বৈঠকের পর একপ্রকার সিলমোহর পড়েছে জল্পনায়। বাম ছাত্র আন্দোলনের মুখ, মানুষের মন ছুঁয়ে যাওয়া কানহাইয়া প্রবল জনপ্রিয়তা পেলেও ২০১৯ এর ভোটে সেই জনপ্রিয়তার কোন ছাপ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জওর জল্পনা দেশের রাজনীতিতে, সমীকরণ বদলে রাহুলের হাত শক্ত করতে তেরঙ্গা ধরছেন প্রশান্ত-কানহাইয়া-জিগনেশ!
আর তার পর থেকেই প্রচারের আলো থেকে সাময়িক সরে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন দু বছরের গ্রাফে রাজনীতির ছাত্র আন্দোলনের পিক পয়েন্ট থেকে সরে বেশ অনেকটা ব্যাকফুটে রয়েছেন বাম ছাত্র নেতা। কানহাইয়ার ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, নিজের দলের সিনিয়র দের সঙ্গে মতোভেদের কারণে তৈরি হয়েচেহ দূরত্ব। কংগ্রেস সূত্রের খবর দলের অন্দরে শুরু হয়েছে আলচনা। কানহাইয়া লালঝান্ডা ছেড়ে কংগ্রেসে এলে কোন পদে বসানো হবে তাঁকে।

শুধু কানহাইয়া নয়, জল্পনা রয়েছে গুজরাটের বিধায়ক জিগনেশ মেবানিকে নিয়েও। গুজরাটের গত বিধানসভা ভোটে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে ভোট জিতে বিধায়ক হয়েছেন তিনি। সেই সময়ে কংগ্রেসের সাহায্য পেয়েছিলেন। সূত্রের খবর তিনিও যোগাযগ করেছেন কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে। সব ঠিক থাকলে এবার সরকারি ভাবে এবং পাকাপাকি ভাবে হাতের হাত ধরবেন গুজরাটের এই বিধায়ক।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, সুস্মিতা দেব, জিতিন প্রসাদ এবং প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর মতো তরুণ মুখেরা কংগ্রেসের হাল ছাড়ার পর দল এখন খুঁছে নতুন মুখেদের। যাঁদের কাঁধে ভর দিয়ে ২৪ এর লক্ষ্যে নতুন ঘুঁটি সাজাবেন বর্ষীয়ান নেতারা। বিজেপিকে পরাস্ত করার কৌশল হিসেবে এই মূহুর্তে কংগ্রেওসের তুরুপের তাস হতে পারেন কানহাইয়া-জিগনেশই। সূত্রের খবর তাঁরা পাকাপাকি ভাবে দলে চলে এলে ২৪ এর ভোটে প্রার্থী করা হবে এই তরুণ মুখেদের।
অন্যদিকে ভোটের যুদ্ধশলা রচনার জন্য প্রশান্তের অভিমত যে কংগ্রেসকে নতুন করে গতিকা শক্তি দেবে তা নিয়েও নিশ্চিত রাজণৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে গান্ধী ঘনিষ্ঠদের মতে, প্রশান্ত কে নিয়ে এক প্রকার ভাবনা ভেবে ফেলেছেন রাহুল, কিন্তু কিশোরের নিজের ভঙ্গীতে কাজ করাকে কতটা পচ্ছন্দ করবেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতারা সেটাও ভাবাচ্ছে দলকে।



