নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে গেলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ আচমকা কাঁথি শহরের হাতাবাড়ি এলাকায় শুভেন্দুর বাড়িতে সটান হাজির হন প্রশান্ত। তবে এ দিন একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে জেলার বাইরে রয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা। ফলে তাঁর দেখা পাননি প্রশান্ত। তাঁর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গে কথা হয় প্রশান্তের। সূত্রের খবর, শুভেন্দু না থাকলেও তাঁর বাবার সঙ্গে প্রশান্তের কথা হয়েছে তাঁকে নিয়েই।
আরও পড়ুনঃসীমান্তের পরিস্থিতি সামাল দিতে ঐক্যমতে পোঁছালেন ভারত-চিন সেনা কর্তারা


শুভেন্দুর সঙ্গেও তাঁর মোবাইলে কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে অধিকারী পরিবারের কেউই মুখ খোলেননি। অধিকারী বাড়িতে পা রাখছেন প্রশান্ত এমন খবর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশেরও অজানা ছিল। জেলার জোড়াফুল শিবিরের ওই অংশের দাবি, টিভি দেখেই গোটা ঘটনার কথা জানতে পারেন তাঁরা। তাঁদের অবশ্য ব্যাখ্যা, অধিকারী বাড়িতে ভোটকৌশলীর এই ঝটিকা সফর আসলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই। কারণ শিশির অধিকারী পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি। শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে গেলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার ঘাটালে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে সেই শুভেন্দুর ভাষণেই উঠে এল ‘দল’ ও ‘নেত্রী’র কথা।
ঘাটালের সঙ্গে নিজের যোগাযোগ মেলে ধরতে গিয়ে ভাষণে শুভেন্দু বলেন, “২০১১ সালে রাজ্যে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের দলের নেত্রীর নেতৃত্বে যে লড়াই হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে দলের বিধায়ক প্রার্থীর হাত ভেঙে দিয়েছিল সিপিএম। সেই সময় কাঁথির বাড়ি থেকে ঘাটালের লক্ষ্মণপুর গ্রামে ছুটে এসেছিলাম। সেই প্রার্থীর চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমি। আমি ঘাটালের মানুষের পাশে আছি, ছিলাম, থাকব।”
তাঁর দল ছাড়া নিয়ে চরম জল্পনার মাঝেই এদিন ভাষণে এভাবে শুভেন্দুর দল ও নেত্রীর প্রসঙ্গ টানা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিকমহল। এদিন নিজেকে ‘পান্তাভাত খাওয়া, মাটিতে বসা তৃণমূল স্তরের কর্মী’ বলে উল্লেখ করে পরিবহণমন্ত্রী অবশ্য আরও বলেন, “শুভেন্দু ছাত্রাবস্থা থেকে ঘাটালের সঙ্গে ছিল, আছে থাকবে। চরৈবেতি, চরৈবেতি মন্ত্রে এগোব। অন্যরা দেখবে আর জ্বলবে।”তবে তৃণমূল নেত্রীর নির্দেশেই যে ১০ বছর আগে ঘাটালের পুরভোটে বাড়ি বাড়ি প্রচারে তিনি এসেছিলেন তাও এদিন প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন শুভেন্দু।


বৃহস্পতিবার ঘাটাল শহরের বিদ্যাসাগর হাইস্কুল মাঠে দাসপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে শুভেন্দু বলেন, “আমি নীচে বসা কর্মী, তৃণমূল স্তরের কর্মী। আমার উপর আপনাদের আস্থা আছে তো?” উপস্থিত জনতা তখন হাত তুলে সমস্বরে সমর্থন জানায় তাঁকে। বক্তব্যের অন্তিম পর্বে সেই নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ টেনেই শুভেন্দু বলেন, “ভারতের স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট।
শুভেন্দু অধিকারীর বাড়িতে গেলেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তারও আগে ১৯৪২ সালের ১৭ ডিসেম্বর নন্দীগ্রাম তমলুকে তাম্রলিপ্ত সরকার গঠন করেছিলেন সতীশ সামন্ত, অজয় মুখোপাধ্যায়রা। একটা সরকার ২৩৫ এর গরম দেখিয়েছিল, তার কী হাল হয়েছে তা আপনারা জানেন। নন্দীগ্রাম থেকেই তার পতনের সূচনা। মাথা নত করেনি মেদিনীপুরের মানুষ, এটা মনে রাখতে হবে। সেই নন্দীগ্রামই পথ দেখাবে রাজ্যকে।” জল্পনার কেন্দ্রে থাকা পরিবহণমন্ত্রীর এই বক্তব্যও ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেইসঙ্গে ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে তাঁর বাবার কি আলোচনা হল, সে নিয়েও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জল্পনা।







