প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির তরফে রাজ্যজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলছে। কর্মবিরতির জেরে সোমবার সকাল থেকে আলু বের হচ্ছে না হিমঘর থেকে। হিমঘর থেকে শনিবার যে আলু বের করা হয়েছিল তা বাজারে প্রায় শেষের দিকে। আজ আলুর দাম পৌঁছে গিয়েছে ৪৫-৫০ টাকায়। সেটাই আগামীকাল বা পরশু যেখানে পৌঁছাবে তা ভেবেই হাড় হিম হয়ে যাচ্ছে সাধারণের। আলু ব্যবসায়ীদের ধারণা আলুর দাম হতে চলেছে ১২০ টাকা কেজি, কার্যত বেনজির সঙ্কটের মুখোমুখি রাজ্য।



বাঁকুড়ায় বৈঠকের পরে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক লালু মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁরা মোটেও আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করেন না। অথচ অন্যান্য রাজ্যে আলু পাঠাতে দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে জোগান বাড়তে চাইছে নবান্ন। আর সেজন্য রফতানির জন্য যে আলুবোঝাই ট্রাক পাঠানো হচ্ছে, সেগুলি রাজ্যের সীমান্তে আটকে দিচ্ছে প্রশাসন। সেই পদক্ষেপের কারণেই তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সম্পাদক।
আলু ব্যবসায়ী সমিতির অভিযোগ, ভিন রাজ্য আলু যাতে না যায়, তার জন্য বর্ডারে রীতিমতো পুলিশি জুলুমবাজি চলছে। বর্ডারে দিনের পর দিন গাড়ি দাঁড়িয়ে থেকে আলু নষ্ট হয়। চলতি সময়ে বাজারে আলুর দাম বৃদ্ধির জেরে আলু ব্যবসায়ী ও সমিতির তরফে এলাকা ভিত্তিক বিভিন্ন বাজারে ন্যায্যমুল্যের আলু বিক্রয় কেন্দ্র খুলে সাধারণ মানুষকে কম দামে আলু বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার আলু ব্যবসায়ীদের কথা ভাবছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।
আলুর দাম হতে চলেছে ১২০ টাকা কেজি, বেনজির সঙ্কটের মুখোমুখি রাজ্য



যদিও হরিপাল এবং সিঙ্গুরের ব্যবসায়ীরা কর্মবিতরিতে জাননি। এখন বাজারে যা আলু দেখছেন, সেটা হরিপাল আর সিঙ্গুরের। কিন্তু বাজারে জোগানের অভাবে ইতিমধ্যেই আলুর দাম বস্তা পিছু প্রায় ১৫০-২০০ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এক বস্তা আলুর দাম সাধারণত সব মিলিয়ে(হিমঘর ট্রান্সপোর্ট ইত্যাদি) ১২৫০ থেকে ১৩০০ টাকা হয়ে থাকে। কর্মবিরতির জেরে এখন এক বস্তা আলুর দাম ১৮০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ বস্তা পিছু দাম বেড়েছে ৫০০ টাকার বেশি।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দোপাধ্যায় সবজি ও আলুর দাম কমাতে নির্দেশ দেওয়ার পর রাজ্য প্রশাসন মজুত আলু ভিন রাজ্যে পাঠাতে দিচ্ছেনা। রাজ্যের বর্ডারে আলুর ট্রাক দেখলেই তা আটকে দিচ্ছে পুলিশ। এই কারনেই কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছে আলু ব্যবসায়ী সমিতি। এই মুহুর্তে, আলুর স্টক কম থাকায়, দাম বাড়তে শুরু করেছে আলুর। মঙ্গলবারই কলকাতা ও রাজ্যের বাজারগুলোতে জ্যোতি আলুর দাম ৪৫ টাকা চন্দ্রমুখী ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল থেকে রাজ্যে আলুর দাম হতে পারে ৭০-৮০ টাকা কেজি!!







