‘মহিলা সাংবাদিককে এভাবে মারল!’—মালদহ থেকে বেলডাঙার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদির

বন্দে ভারত স্লিপার উদ্বোধনে মালদহে মোদি। বেলডাঙার ঘটনা ও মহিলা সাংবাদিক নিগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে বিজেপির পক্ষে ভোটের ডাক।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটমুখী বাংলাকে বেছে নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনে শনিবার মালদহের মঞ্চ থেকে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। নাম না করেও বেলডাঙার সাম্প্রতিক অশান্তি এবং এক মহিলা সাংবাদিক নিগ্রহের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী।

মালদহ থেকে হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের সূচনা করে মোদি বলেন, “একজন মহিলা সাংবাদিককে এভাবে মারধর করা হল! এই ঘটনা তৃণমূলের গুন্ডারাই ঘটিয়েছে। তৃণমূল রাজ্যে মা-বোনেরা কোথাও নিরাপদ নন।” তাঁর প্রশ্ন, এই পরিস্থিতি বদলাবে কে? উত্তরও দিলেন নিজেই—“এই কাজ বিজেপি ছাড়া আর কে করতে পারে?”

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন। তিনি বলেন, “স্কুল, কলেজেও মহিলারা সুরক্ষিত নন। এতটাই নির্মমতা যে তাঁদের কথা শোনা হয় না। নির্যাতিতাদের কোর্টে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।” এই পরিস্থিতি বদলাতে ভোটারদের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে মোদি বলেন, “আপনাদের একটিমাত্র ভোটই পশ্চিমবঙ্গের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারে।”

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর আশ্বাস, “মোদীর গ্যারান্টি—ধর্মীয় হিংসার শিকার হয়ে যাঁরা প্রতিবেশী দেশ থেকে এসেছেন, তাঁরা ভয় পাবেন না। CAA-র মাধ্যমে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে বিজেপি।” তিনি দাবি করেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লে মতুয়া ও নমশূদ্রদের উন্নয়ন আরও গতি পাবে।

অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলের সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করার খেলা করছে। এর ফলে গরিবদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, যুবকদের কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে।” মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় হিংসা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার এলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উন্নয়ন ইস্যুতেও রাজ্য সরকারকে তুলোধোনা করেন প্রধানমন্ত্রী। নদীভাঙন, বাঁধ সংস্কার, কৃষি ও শিল্পের দুরবস্থার জন্য তৃণমূলকে দায়ী করে তিনি বলেন, “CAG রিপোর্টেই স্পষ্ট—বাঁধের নামে টাকা লুট হয়েছে। যাঁদের প্রয়োজন ছিল, তাঁরা পাননি, অথচ তৃণমূলের ঘনিষ্ঠদের বারবার টাকা দেওয়া হয়েছে।” তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এলে এই ‘কালো দুর্নীতি’ বন্ধ হবে।

মোদির বক্তব্যে উঠে আসে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথাও। আয়ুষ্মান ভারত, মুক্ত বিদ্যুৎ যোজনা, পাট ও আমচাষিদের সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলার মানুষকে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। “বাংলা দেশের একমাত্র রাজ্য, যেখানে ৫ লক্ষ টাকার আয়ুষ্মান যোজনা চালু হয়নি,”—বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ভাষণের শেষভাগে মোদি বলেন, “ওড়িশা, ত্রিপুরা, অসম, বিহার—সব জায়গায় বিজেপির সুশাসনের সরকার। এখন বাংলাতেও সেই সময় এসেছে।” বন্দে মাতরম ও ভারত মাতার জয় ধ্বনির মধ্য দিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী, স্পষ্ট বার্তা দিয়ে—২০২৬-এর লড়াইয়ে বাংলায় পরিবর্তনই তাঁর লক্ষ্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর