রাজনৈতিক জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র ডাকা প্রাতঃরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের তিন সংখ্যালঘু সাংসদ। খলিলুর রহমান (Khalilur Rahaman), আবু তাহের খান (Abu Taher Khan) এবং ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)-এর উপস্থিতি ঘিরে আগেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। কারণ, এর আগে তাঁরা এনডিএ-র একাধিক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, তাঁরা এনসিপিআই (NCPI)-তে থাকলেও বিজেপির অংশ নন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
মুর্শিদাবাদের এই তিন সাংসদের অবস্থান গত কয়েক মাস ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কালীঘাট তৃণমূল ছেড়ে তাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়। যদিও দলটি এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি, লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) আলাদা সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে এনসিপিআইয়ের অস্তিত্ব মেনে নিয়েছেন। সেই কারণেই দলের অন্যান্য সাংসদদের এনডিএ-র বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ এতদিন দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁরা প্রকাশ্যে বিজেপির সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার বার্তা দিতে চাননি। তাই এনডিএ-র বৈঠকে তাঁদের দেখা না গেলেও, পৃথকভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)-র সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
শুক্রবারের প্রাতঃরাশ বৈঠক ছিল সদ্য এনডিএ-তে যোগ দেওয়া এবং সহযোগী শিবিরের সাংসদদের নিয়ে। ফলে সেখানে যোগ দেওয়া নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিন সাংসদই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।
সূত্রের দাবি, বৈঠকে এনসিপিআইয়ের সাংসদরা দলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। আবেদন জমা দেওয়ার পরও এখনও দল হিসেবে স্বীকৃতি না মেলায় সাংসদদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটিও তাঁরা জানান। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংসদদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি তিনি প্রত্যেক সাংসদকে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নমূলক কাজকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, “নিজের রাজ্য এগিয়ে গেলেই দেশের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।”
এছাড়াও বৈঠকে কেন্দ্রের ‘লুক ইস্ট’ (Look East Policy) নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে সেই বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদীয় কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ, সংসদের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন এবং বিতর্কে সক্রিয় উপস্থিতির উপরও তিনি জোর দেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের এই বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং এনসিপিআইয়ের স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনার দাবি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



