শুক্রবার সকালে মুর্শিদাবাদ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল গোটা জেলায়। স্কুলে যাওয়ার পথে একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা মারে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দুই স্কুল পড়ুয়া-সহ মোট তিন জনের। আরও চার জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনার পর পূর্ব রেল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং সাময়িকভাবে ওই শাখায় ট্রেন চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে।
পুলিশ ও রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল প্রায় ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ হাওড়া ডিভিশনের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ শাখার কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের পর গোবিন্দপুর রেলগেটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রতিদিনের মতো একটি গাড়িতে করে কয়েকজন পড়ুয়া স্কুলে যাচ্ছিল। সেই সময় কাটোয়াগামী নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন গাড়িটিকে ধাক্কা মারলে সেটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান গাড়ির চালক-সহ মোট তিন জন। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন কান্দি থানার ডাবকই এলাকার বাসিন্দা জামশেদ শেখ (৫০) এবং বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর গ্রামের দুই স্কুল পড়ুয়া। এছাড়া চালক ও আরও তিন পড়ুয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রেলগেট যথাসময়ে নামানো হয়নি বলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বহু গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। অভিযোগ, রেলগেটের দায়িত্বে থাকা কর্মী সেই সময় নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ভিতরে ছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই আপ নবদ্বীপ ধাম এক্সপ্রেস ওই রুট দিয়ে যাওয়ার সময় রেলগেট নামানো হয়েছিল। কিন্তু পরে সকাল ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসার সময় রেলগেট খোলা ছিল। রেলগেট খোলা দেখে ট্রেন আসবে না ভেবে চালক রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় দ্রুতগতিতে এসে গাড়িটিকে ধাক্কা মারে ট্রেনটি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দায়িত্ব পালনের সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন, নাকি অন্য কোনও কারণে গেট ছেড়ে ছিলেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।