কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সন্দেশখালি থেকে আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ড—একাধিক বিতর্কিত ঘটনাকে সামনে এনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ এখনও সেই ঘটনাগুলি ভুলে যাননি।
মোদী বলেন, একসময় বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের আশায় মানুষ তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই আশা ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার অপরাধীদের দলে টেনে নিয়ে তাদের রক্ষা করছে এবং রাজ্যে গুন্ডা ও মাফিয়াদের দাপট বাড়তে দিয়েছে।


প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধমূলক ঘটনা বাড়ছে এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই কোনও না কোনওভাবে তৃণমূলের লোকজনের নাম উঠে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়।
সন্দেশখালির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, সেই ঘটনার ছবি গোটা দেশ দেখেছে এবং রাজ্যের মানুষ এখনও তা ভুলতে পারেনি। একইভাবে আরজি কর হাসপাতাল কাণ্ডের কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার ফলে রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মোদীর দাবি, বর্তমানে বাংলায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে মেয়েদের সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসতে বলা হয়। তাঁর কথায়, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলার বাস্তব অবস্থা আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি চন্দ্রকোনা এলাকায় এক আলুচাষীর আত্মহত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
মোদীর অভিযোগ, কাটমানি, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে কৃষক থেকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার সরে গেলে গরিব মানুষের জন্য পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু হবে এবং প্রতিটি বাড়িতে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে।
ব্রিগেডের সভা থেকে মোদী স্পষ্ট বার্তা দেন—বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং সেই পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্যে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয় বিজেপি।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, তৃণমূলের রাজনীতি মূলত ভয় দেখানো এবং বিরোধীদের দমিয়ে রাখার উপর দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর কথায়, বাংলায় এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে যেখানে তৃণমূলকে ভোট না দিলে মানুষকে ‘বাঙালি নয়’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।
ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে মোদী বলেন, এই পরিস্থিতির পরিবর্তন খুব দূরে নয়। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে এবং বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটবে।
মোদী আরও বলেন, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে একদিকে যেমন উন্নয়ন হবে, অন্যদিকে অতীতের সব দুর্নীতি ও অপরাধের হিসাবও নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা মানুষকে ভয় দেখিয়ে রাজনীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডারা যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। বাংলায় আইনের শাসন ফিরবে। যারা অপরাধ করেছে, তাদের একটাই জায়গা—জেল।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



