“শুধু পরিবর্তন নয়, এবার হিসাবও হবে”— ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে কড়া বার্তা মোদীর

ব্রিগেড সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কড়া বার্তা— বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অত্যাচারীদের’ খুঁজে খুঁজে হিসাব নেওয়া হবে, অপরাধীদের জায়গা হবে জেলে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শনিবারের বিশাল সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট বার্তা দিলেন— পশ্চিমবঙ্গে যদি রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে, তবে শুধু সরকার বদলেই থেমে থাকবে না, অতীতের ‘অত্যাচার’ ও ‘দুর্নীতির’ হিসাবও নেওয়া হবে। প্রায় ৪৫ মিনিটের ভাষণে একাধিকবার তিনি বলেন, “কোনও অত্যাচারীকে ছাড়া হবে না, খুঁজে খুঁজে হিসাব নেওয়া হবে।” নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগমুহূর্তে এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল।

বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই ব্রিগেড সমাবেশকে দলীয় নেতারা রাজ্য বিজেপির অন্যতম বৃহৎ সমাবেশ হিসেবে দাবি করেছেন। দুপুরের পর থেকেই কলকাতার ময়দান এলাকা ভরে ওঠে বাস ও ট্রেনে করে আসা সমর্থকদের ভিড়ে। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে করে এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ১৬টি বিশেষ ট্রেনে করে কর্মী-সমর্থকদের আনা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

ভাষণের শুরুতেই সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মোদী বলেন, “যত দূর চোখ যাচ্ছে, শুধু মানুষ আর মানুষ।” তাঁর অভিযোগ, এই সমাবেশ আটকাতে রাজ্য সরকার নানা বাধা তৈরি করেছিল— রাস্তা বন্ধ, ট্রাফিক জ্যাম, গাড়ি আটকানো থেকে শুরু করে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে সেই সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, “এখনই শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন।”

ভাষণের প্রথম দিকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘আইনের শাসন’ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং যাঁরা অত্যাচার করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কেউ রেহাই পাবে না, এক এক করে সব হিসাব নেওয়া হবে।”

এরপর কেন্দ্রীয় বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মোদী। পিএম বিশ্বকর্মা, পিএম সূর্যঘর, আয়ুষ্মান ভারত কিংবা চা-বাগান শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রের প্রকল্প— এসব পশ্চিমবঙ্গে ঠিকভাবে কার্যকর হয়নি বলেই দাবি তাঁর। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার নাম পরিবর্তন এবং সুবিধাভোগীর তালিকায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, অন্য রাজ্যে জল জীবন মিশনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছালেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও পিছিয়ে রয়েছে।

কর্মসংস্থান এবং নারীর নিরাপত্তার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলায় তিনি বলেন, “এই স্বপ্ন আপনার, আর এই স্বপ্ন পূরণ করা মোদীর গ্যারান্টি।” মেয়েদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার গঠিত হলে অপরাধীরা জেলে থাকবে— এটাও তাঁর ‘গ্যারান্টি’।

ভাষণের শেষের দিকে আবারও কড়া সতর্কবার্তা শোনান মোদী। তাঁর কথায়, “যারা মানুষকে ভয় দেখায়, তাদের ভয়ের দিন শুরু হতে চলেছে। যারা অপরাধী, অনুপ্রবেশকারী বা তোষণের রাজনীতি করে, তাদের জায়গা একটাই— জেল।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের দিন ফুরিয়ে আসছে এবং পরিবর্তনের সময় খুব কাছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পুরো ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উচ্চারণ করেননি মোদী। পরিবর্তে তিনি বারবার ‘নির্মম সরকার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। তবে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চে মমতার এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোন সম্প্রদায় কোটি কোটি মানুষকে শেষ করে দেবে?”

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘অসম্মান’ প্রসঙ্গও ফের উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ওই ঘটনা শুধু রাষ্ট্রপতির নয়, দেশের সংবিধান এবং আদিবাসী সমাজেরও অপমান। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও সামরিক বাহিনী সম্পর্কেও তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

সব শেষে ব্রিগেডের জনসমুদ্রকে সামনে রেখে মোদী বলেন, “এই জনস্রোত বাংলায় জেগে ওঠা নতুন চেতনার প্রতীক। এ বার পরিবর্তন হবেই।” তাঁর দাবি, আসন্ন নির্বাচন শুধু সরকার বদলের নয়, বাংলার আত্মা রক্ষার লড়াই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত