দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বিতর্কিত ভোটারদের নাম যুক্ত করে প্রকাশ করা হল নতুন ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট’। ফলে আগে তালিকা থেকে বাদ পড়া বহু মানুষ এবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন—গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার দরজা খুলে গেল তাঁদের জন্যও।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারের ভোটে যাঁরা এই অতিরিক্ত তালিকায় নাম পেয়েছেন, তাঁরাই বৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য হবেন। ইতিমধ্যেই কমিশনের ওয়েবসাইটে এই তালিকা আপলোড করা হয়েছে। প্রথম দফার আগে যেখানে মাত্র ১৩৯ জনের নাম এই তালিকায় ছিল, সেখানে দ্বিতীয় দফায় সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৬৮। যদিও ছ’জনের নাম বাদও গিয়েছে।
দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় রাজ্যের সাতটি জেলার মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটার তালিকা আগেই ‘ফ্রিজ’ হয়ে গেলেও, Supreme Court of India-এর নির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। আদালত জানিয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যেসব আবেদন নিষ্পত্তি হবে, সেগুলির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নামগুলি সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই কমিশন এই নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে।
সূত্রের খবর, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম যাচাইয়ের জন্য ঝুলে ছিল। এই বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। রাজনৈতিক দলগুলিও দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তুলেছিল, যা নিয়ে আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি।
শেষপর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী ধাপে ধাপে তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এই নতুন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ। ফলে যাঁদের নাম এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, তাঁদের একাংশ এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত ভাবে স্পষ্ট হয়নি, এই তালিকায় থাকা প্রত্যেকেই ঠিক কোন বুথে ভোট দেবেন এবং কত সংখ্যক নতুন ভোটার বাস্তবে অংশ নেবেন। তবুও নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপে দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



