শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির (Enforcement Directorate) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ কারাবাসের বৈধতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা।
অর্পিতা, শান্তনুর জামিন, তবু জেলে পার্থ
সম্প্রতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পরই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারাবাস নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অর্পিতার জামিনের পর থেকেই জেলে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। শান্তনু ১০ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। কিন্তু পার্থ কেন এখনও বন্দি, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টে ইডিকে ভৎসনা
২৭ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে ইডিকে কঠোর ভাষায় ভৎসনা করেছেন বিচারপতিরা।
বিচারকদের প্রশ্ন:
- “এভাবে কাউকে এতদিন আটকানো যায় কি?”
- “ইডির সাফল্যের হার কত? এটি কি ৬০-৭০ শতাংশ?”
- “ঘুষের টাকা বাড়িতে রাখার প্রমাণ কোথায়?”
বিচারপতিরা আরও বলেন, কেবল বয়ান যথেষ্ট নয়, উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কাউকে আটক রাখা অন্যায়।
জামিনের সওয়াল-জবাবের সময় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী মুকুল রোহতগি জানান, “এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অর্পিতার বাড়ি থেকে পাওয়া টাকা, ও সোনার গয়নার সঙ্গে পার্থর কোনও সম্পর্ক নেই। অর্পিতার সঙ্গেও তাঁর কোনও সম্পর্কই নেই।” জামিনের বিরোধিতা করে ইডির আইনজীবীর দাবি, পার্থ প্রভাবশালী, জামিন পেলে প্রমাণ লোপাট হতে পারে।
পরবর্তী শুনানি এবং জামিনের সম্ভাবনা
আদালতের নির্দেশ অনুসারে, আগামী সোমবার, ৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ইডি যদি প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে জামিন দিতে পারে সুপ্রিম কোর্ট।
ইডির সাফল্যের হার এবং বিতর্ক
ইডির সাফল্যের হার এবং তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। ঘুষের টাকা বাড়িতে রাখার অভিযোগের যথার্থতা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। বিচারকদের মতে, প্রভাবশালী হওয়ার মানেই অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় আটক রাখা উচিত নয়।



