যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটুকুই বলুন: এসএসসি মামলায় ‘নির্দোষ’ পার্থকে থামালেন বিচারক

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জগঠন চলাকালীন আদালতে ফের ‘নির্দোষ’ দাবি করলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, কিন্তু বিচারকের হুঁশিয়ারিতে থেমে গেলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Scam) সোমবার ফের আদালতে হাজিরা দিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতালের বেডে শুয়ে, কালো চশমা পরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির হন তিনি। আগের মতোই জানালেন— তিনি সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’। তবে নিজের বক্তব্য দীর্ঘ করতে গেলে বিচারক হুঁশিয়ারি দিয়ে থামিয়ে দেন।

আলিপুরের সিবিআই বিশেষ আদালতে (CBI Special Court) নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠনের শুনানি চলছিল। বিচারক সমস্ত অভিযুক্তদের অভিযোগ পড়ে শোনান। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রার্থীদের প্রকৃত নম্বর বিকৃত করে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়া, ভুয়ো নিয়োগপত্র ব্যবহার এবং নথি জালিয়াতিরও অভিযোগ উঠে আসে।

বিচারকের উদ্দেশে পার্থ বলেন, “আমি নির্দোষ, প্রতিদিন একই কথা বলব।” তবে আরও কিছু বলতে গেলে বিচারক থামিয়ে দিয়ে জানান, “আপনার আইনজীবী আছেন, কিছু জানার থাকলে তাঁকে বলুন। এখন যতটুকু জানতে চাওয়া হয়েছে, ততটুকুই বলুন।”

যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটুকুই বলুন: এসএসসি মামলায় ‘নির্দোষ’ পার্থকে থামালেন বিচারক

যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটুকুই বলুন: এসএসসি মামলায় 'নির্দোষ' পার্থকে থামালেন বিচারক
যতটুকু জানতে চাওয়া হচ্ছে, ততটুকুই বলুন: এসএসসি মামলায় ‘নির্দোষ’ পার্থকে থামালেন বিচারক

পার্থের আইনজীবীর দাবি, চারটি চার্জশিট জমা পড়লেও প্রাথমিকভাবে তাঁর মক্কেলের নাম ছিল না। শেষের চার্জশিটে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে শুধু একজন সাক্ষীর বয়ানের ভিত্তিতে। তাঁর বক্তব্য, তৎকালীন মন্ত্রী হওয়ার কারণে পার্থকে ফাঁসানো হয়েছে। নিরপেক্ষ কোনও সাক্ষীই পার্থের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেননি।

অন্যদিকে বিচারক সরাসরি মন্তব্য করেন, “আপনারা ষড়যন্ত্র করে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দিয়েছেন। প্রার্থীদের ঘুষ দিতে বাধ্য করেছেন।” জীবনকৃষ্ণ সাহা, প্রসন্ন রায়-সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইডি প্রথমে নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। পরে সিবিআইও (CBI) তাঁকে গ্রেফতার করে একাধিক মামলায়। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ নিয়োগ মামলায় তাঁর নাম জড়ায়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিবিআইয়ের প্রাথমিক নিয়োগ মামলাতেও গ্রেফতার হন তিনি।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে সিবিআই। গ্রুপ সি মামলাতেও শেষ চার্জশিট দাখিল হয়েছে আলিপুর আদালতে। যদিও সর্বশেষ চার্জশিটে নতুন কোনও অভিযুক্তের নাম যোগ হয়নি, তবে নতুন প্রমাণ এবং নথি যুক্ত করা হয়েছে।

এখন সবার নজর আলিপুর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে। প্রশ্ন একটাই— পার্থ চট্টোপাধ্যায় সত্যিই নির্দোষ প্রমাণিত হবেন, নাকি নিয়োগ দুর্নীতিতে তাঁর ভূমিকা আইনের চোখে প্রমাণিত হবে?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত