ভোটগণনার আগে শেষ মুহূর্তে কৌশল সাজিয়ে ফেলল তৃ্রিনমু। জেলা ধরে ধরে শীর্ষ নেতৃত্বকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে ময়দানে—উদ্দেশ্য একটাই, গণনায় কোনও ফাঁক না রাখা। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় থাকবেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায় নিজে, আর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ব্যারাকপুর-দমদমে নজর রাখবেন রাজীব কুমার।
গণনার আগের বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—প্রতিটি জেলায় বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানো হবে। ভোর ৬টা থেকেই পার্টি অফিস খুলে কর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতে ট্রান্সফরমার পর্যন্ত নজরে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে গণনার দিনে কোনও অজুহাত না থাকে।


উত্তরবঙ্গেও সাজানো হয়েছে আলাদা কৌশল। আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে থাকবেন সামিরুল ইসলাম। দার্জিলিংয়ের সমতলে দায়িত্বে গৌতম দেব, আর ইসলামপুরে থাকবেন শান্তনু সেন। তবে কোচবিহারে আলাদা করে কাউকে পাঠানো হচ্ছে না।
দক্ষিণবঙ্গেও ভারী ওজনের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তর চব্বিশ পরগনায় সৌগত রায় এবং পার্থ ভৌমিক থাকবেন। বারাসতে রথীন ঘোষ। পূর্ব বর্ধমান জেলায় কীর্তি আজাদ ও রাসবিহারী হালদার দায়িত্বে।
কলকাতার দুই ভাগে আলাদা টিম—উত্তরে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিবেক গুপ্ত, কুণাল ঘোষ, স্বপন সমাদ্দার। দক্ষিণ কলকাতায় দায়িত্বে অরূপ বিশ্বাস এবং ববি হাকিম থাকবেন।


হাওড়াতে চারজন প্রতিনিধি—পুলক রায়, অরূপ রায়, কৈলাশ মিশ্র, গৌতম চৌধুরী। হুগলির দায়িত্বে একাই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রানাঘাটে শঙ্কর সিংহ ও দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়।
পূর্ব মেদিনীপুরে সায়নী ঘোষ ও ঋজু দত্ত। দক্ষিণ ২৪ পরগণায় স্বয়ং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরে জয়প্রকাশ মজুমদার, মালদাতে দোলা সেন।
মুর্শিদাবাদে জঙ্গিপুরে আসিফ ইকবাল, বহরমপুরে প্রতিকুর রহমান ও সুখেন্দুশেখর রায়। বীরভূমে শতাব্দী রায়।
বাঁকুড়ার দায়িত্বে সুশান্ত ঘোষ, বিষ্ণুপুরে জীবন সাহা, ঝাড়গ্রামে অরূপ চক্রবর্তী। পশ্চিম বর্ধমানে বাবুল সুপ্রিয়। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলায় জুন মালিয়া ও দেব।
সব মিলিয়ে, গণনার দিনকে সামনে রেখে ‘মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট’-এ জোর দিচ্ছে তৃণমূল। প্রতিটি কেন্দ্র, প্রতিটি জেলা—সবখানেই কড়া নজর রাখতে চায় দল, যাতে ফল ঘোষণার দিন কোনও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।







