‘চাকরির নামে কার থেকে টাকা নিয়েছি?’ বেহালাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

জেল থেকে ফিরে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বেহালা পশ্চিমের মানুষের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বললেন, “আমি সৎ পথে ছিলাম।”

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা, ১২ নভেম্বর: Partha Chatterjee open letter— জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেই রাজনৈতিক ময়দানে ফের সরব প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ তিন বছর জেল খাটার পর, বুধবার সকালে বেহালা পশ্চিমের বাড়িতে বসেই নিজের কেন্দ্রের বাসিন্দাদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লেখেন তিনি।

চিঠিতে পার্থ প্রশ্ন তুলেছেন— “চাকরির নামে কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি আমি? আমার নামে কেউ টাকা নিয়েছে কি না, তা জানার অধিকার আপনাদের আছে।

‘বেহালাবাসীর ভরসা আমার শক্তি’ — জানালেন প্রাক্তন মন্ত্রী

চিঠিতে পার্থ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “আমি সৎ পথে ছিলাম, আছি, থাকব। বেহালা পশ্চিমের মানুষ আমার পরিবারের মতো। আপনাদের মনে যদি কোনও প্রশ্ন থাকে, আমি উত্তর দেব। প্রয়োজনে অটোতে চেপে প্রতিটি বাড়িতে যাব, আপনাদের মুখোমুখি হব।”

এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, তিনি এখনও নিজের রাজনৈতিক ক্ষেত্র ছাড়তে রাজি নন। বরং, নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া।

‘চাকরির নামে কার থেকে টাকা নিয়েছি?’ বেহালাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের
‘চাকরির নামে কার থেকে টাকা নিয়েছি?’ বেহালাবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

দলের পদ হারিয়েও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত

পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্নের নেতা। একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর নাম জড়ানোর পর দল তাঁকে সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেয় এবং পরে সাসপেন্ড করা হয়।

তবে তিন বছর পর জেল থেকে বেরিয়েই তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন — “আমি রাজনীতি ছাড়িনি।” তাঁর মতে, তিনি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ, তারা পাঁচবার তাঁকে জিতিয়েছেন, তাই নীরব থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

এক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, “এই খোলা চিঠি আসলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত। তিনি জনসংযোগের মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করেছেন।”

‘চাকরির নামে টাকা’ অভিযোগে নিজেকে দূরে রাখলেন পার্থ

চিঠিতে পার্থ লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে আমি চাকরির নামে টাকা নিয়েছি। কিন্তু আমি জানতে চাই, কার কাছ থেকে নিয়েছি আমি টাকা? কারও কাছে যদি প্রমাণ থাকে, দয়া করে সামনে আনুন।

তাঁর দাবি, তিনি কখনও চাকরির বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং, কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করে এই কাজ করে থাকলে তা প্রকাশ্যে আসা উচিত।

তদন্তকারী সংস্থার একাংশ যদিও পার্থর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলেই মনে করছে। তাদের দাবি, মামলার প্রমাণেই স্পষ্ট তিনি মূলচক্রীদের একজন। তবে পার্থ বলছেন, “আমার বিরুদ্ধে যে প্রমাণের কথা বলা হচ্ছে, তা আদালতে প্রমাণ হোক। আমি আইনের উপর আস্থা রাখি।”

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা — ২০২৬-এ ফের প্রার্থী হবেন?

এই চিঠির পর রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে — পার্থ চট্টোপাধ্যায় কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবার প্রার্থী হতে চাইছেন? যদিও তিনি সরাসরি কিছু জানাননি, তবে তাঁর মন্তব্য থেকেই ইঙ্গিত মেলে যে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে প্রস্তুত।

তৃণমূল সূত্রে কেউ কেউ মনে করছেন, দল এখনও পার্থকে ফিরিয়ে নেবে না। তবে তাঁর জনসংযোগমূলক প্রচেষ্টা বেহালা পশ্চিমে রাজনৈতিক সমীকরণ পালটে দিতে পারে

বেহালাবাসীর উদ্দেশে আত্মপক্ষ সমর্থনের আবেদন

চিঠির শেষে পার্থ লেখেন, “আমি বেহালার সন্তান। আপনারাই আমায় চিনেছেন, আমায় ভালোবেসেছেন। আজ আমি আপনাদের কাছে একটাই অনুরোধ রাখি — আমার কথা শুনুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন আমি দোষী না নির্দোষ।”

এই বক্তব্যেই যেন ফুটে উঠেছে পার্থর আত্মবিশ্বাস এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সংকল্প। এখন দেখার বিষয়, বেহালাবাসী তাঁর প্রতি আবার আগের মতো আস্থা রাখেন কি না।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত