২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেহালা পশ্চিমে জনসংযোগ শুরু করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যুবসাথী প্রকল্প ঘিরে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা—“ভাতা দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়, চাকরি দিতে হবে।” টিকিট অনিশ্চিত থাকলেও লড়াই থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না তিনি; প্রয়োজনে নির্দল হিসেবেও ময়দানে নামার ইঙ্গিত মিলেছে। ভাষা দিবসের দিনকেই প্রচার শুরুর জন্য বেছে নেওয়ায় রাজনৈতিক তাৎপর্য দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
২১ ফেব্রুয়ারি বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে ঘরোয়া সভা ও রাস্তায় রাস্তায় জনসংযোগে নেমে পার্থ বলেন, “আমি তোমাদেরই লোক।” টানা পাঁচবারের বিধায়ক হিসেবে এলাকার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, বাম আমল থেকে বিভিন্ন সরকার ভাতা দিয়েছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যেও দেওয়া হয়, এ রাজ্যেও দেওয়া হচ্ছে—কিন্তু কর্মসংস্থানই আসল সূচক। “চাকরি না দিলে উন্নয়ন সম্পূর্ণ হয় না,”—সরাসরি আক্রমণ তাঁর।
রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, ২০২৬-এ তাঁকে টিকিট না-ও দিতে পারে তৃণমূল। সেই প্রেক্ষাপটে পার্থের প্রচার শুরুকে অনেকেই ‘স্বতন্ত্র অবস্থান’ স্পষ্ট করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, দলীয় প্রতীক না পেলেও তিনি জোড়া পাতা চিহ্নে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন—যদিও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
ভাষা দিবসের দিন প্রচার শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বার্তা দিয়েছেন পার্থ। স্থানীয়দের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য, এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, আবেগেরও। আগামী দিনে প্রচার আরও জোরদার হবে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বেহালা পশ্চিমে ভোটের অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়—ভাতা বনাম চাকরির বিতর্কে তিনি যে সরাসরি লড়াই চান, তা স্পষ্ট।
উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর তিন মাস জেলবন্দি থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে বর্তমানে পরিষদীয় কাজকর্মে ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছেন রাজ্যের এই প্রাক্তন মন্ত্রী। ২০২২ সালের ২৩ জুলাই স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে Enforcement Directorate (ইডি)। গ্রেফতারের সময় তিনি রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ও পরিষদীয় মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেফতারির পরই তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানোর পাশাপাশি দল থেকেও নিলম্বিত করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
পরবর্তী সময়ে একই মামলায় Central Bureau of Investigation (সিবিআই)-এর হাতেও গ্রেফতার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একাধিক মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ১১ নভেম্বর জেল থেকে মুক্তি পান তিনি। বর্তমানে নাকতলার নিজের বাসভবনেই রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।



