নজরবন্দি ব্যুরোঃ অরুণাচল প্রদেশের চিন সিমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষ। তাওয়াং নিয়ে বুধবারও উত্তপ্ত সংসদ। সংসদে তাওয়াং হামলা নিয়ে আলোচনা চেয়ে দাবি জানালেন কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। কিন্তু তাঁদের দাবি খারিজ হওয়ার পরেই সংসদ কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান সাংসদরা।
আরও পড়ুনঃ নিজের ফোনে 5G পরিষেবা চালু করবেন কী ভাবে, জানুন এখুনি


গালওয়ানের পর তাওয়াংয়ে হামলার ঘটনাকে মোটেই ছোটভাবে দেখতে চাইছে না বিরোধী দলগুলি। সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রণনীতি আগেই তৈরি করে ফেলেছে । এদিন সকালেই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকাজুন খাড়গের নেতৃত্বে একটি বৈঠকও হয়। এদিন সংসদে বিরোধীদের বক্তব্য ছিল, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে। চিনের আগ্রাসী নীতিকে কোন উপায়ে মোকাবিলা করতে চাইছে সরকার, তা নিয়েও প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার নিজেদের অবস্থান জানাক।
যা ঘিরে দুই কক্ষেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকাজুন খাড়গের নেতৃত্বে ওয়াকআউট করে সমস্ত বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে, লোকসভায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীআর কক্ষ ছেড়ে বেরিয়া যান।

গতকাল অবশ্য তাওয়াংয়ে চিন হামলা নিয়ে মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, সীমালঙ্ঘনের চেষ্টা চালিয়ে গত ৯ ডিসেম্বর তাওয়াং সেক্টরের ইয়াংসে এলাকায় হামলা চালায় পিপলস লিবারেশন আর্মি। চিনা ফৌজের হামলার পরেই কৌশলে ভারতীয় সেনা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছিল। কোনভাবেই চিনা ফৌজ যাতে ভারতের গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে গেছে ভারতীয় সেনা।


তিনি আরও বলেন, চিনের সঙ্গে সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমি সংসদকে আশ্বস্ত করতে চাই ভারটিয় সেনা আমাদের সীমান্ত রক্ষার ক্ষেত্রে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে দুই পক্ষের সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর সংযোজন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে সেনারা আহত হলেও তবে সেটা মোটেই চিন্তার বিষয় নয়। সেনা কম্যান্ডারদের দ্রুত হস্তক্ষেপে লাল ফৌজের সেনারা নিজেদের জায়গায় দিরে গেছে।
তাওয়াং নিয়ে বুধবারও উত্তপ্ত সংসদ, ওয়াকআউট করলেন বিরোধীরা

ঘটনার পর ১১ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে সেনা পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে দুই দেশের মধ্যে ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু চিন এই ধরনের ঘটনা মানতে রাজি হয়নি। সীমান্তে যাতে শান্তি বজায় থাকে সেবিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যে মোটেই সন্তুষ্ট হননি বিরোধীরা। বুধবারেও অধিবেশন চলাকালীন ধরা পড়ল উত্তপ্ত পরিস্থিতি।







