টলিউডে ক্ষমতার পালাবদলের আবহে সামনে এল বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভ। টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে কলাকুশলী ও ফেডারেশনের বিভিন্ন গিল্ড সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করলেন, যা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এল বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের কর্মপরিবেশ, চাপ এবং তথাকথিত ‘ব্যান কালচার’-এর বিতর্ক।
বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-সহ একাধিক পরিচালক, প্রযোজক ও শিল্পী। নতুন সরকারের তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ প্রথমবার সরাসরি শিল্পী ও কলাকুশলীদের বক্তব্য শোনেন।


সেখানেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে পরমব্রত বলেন, কাজের স্বার্থে এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের জায়গা থেকে অনেক সময় আপস করতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সদ্যজাত সন্তানের দায়িত্ব মাথায় রেখে এমন পরিস্থিতিও এসেছে, যেখানে অপমান সত্ত্বেও কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে নয়, বরং ভবিষ্যতে যেন কাউকে একই অভিজ্ঞতার মুখে না পড়তে হয়, সেই কারণেই তিনি এই কথা বলছেন।
পরমব্রতের বক্তব্যে উঠে আসে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— কাজের সুযোগ কি রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে? তাঁর দাবি, শিল্পে এমন একটি কাঠামো তৈরি হওয়া প্রয়োজন যেখানে আলোচনা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে সমস্যা মেটানো হবে এবং কাউকে কাজ হারানোর ভয় বা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হতে হবে না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ সময়কালে টলিউডের অন্দরে নন-মেম্বারদের নিয়ে কাজ করা এবং শুটিং সংক্রান্ত একাধিক নিয়মকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় কিছু শিল্পী ও নির্মাতা প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শিল্পের অন্দরে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা বা কাজের সুযোগ কমে যাওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।


নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে টলিউডের কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত রুদ্রনীল ঘোষ জানান, কোনওভাবেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা যাবে না এবং কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সিদ্ধান্তে কারও কাজ বন্ধ হওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও কাজের ভিত্তিতেই সুযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
একই বৈঠকে বিভিন্ন কলাকুশলী অতীতের কিছু অভিজ্ঞতা ও অভিযোগও তুলে ধরেন। নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ধরনের আরও বৈঠক হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শুনে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।
টলিউডের এই আলোচনা আপাতত শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই— বরং শিল্পের কাজের পরিবেশ, স্বাধীনতা এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের দিকেও ইঙ্গিত করছে।



