বিশ্বের অতিমারি পরিস্থিতির মধ্যে ৪ হাজারের বেশি জঙ্গিকে তালিকা থেকে বাদ পাকিস্তানের, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের।

বিশ্বের অতিমারি পরিস্থিতির মধ্যে ৪ হাজারের বেশি জঙ্গিকে তালিকা থেকে বাদ পাকিস্তানের, কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় পাকিস্তানকে নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ও জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড রমরমিয়ে চলছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে, বললেন জেনেভায় রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পবন বাধে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭৫তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জানায়, এই মহামারি আবহের মধ্যেই জঙ্গি তালিকা থেকে প্রায় ৪ হাজার জঙ্গিকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

আরও পড়ুনঃ দেশে কমলো করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।

এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে জনসংখ্যা পরিবর্তন করার অভিযোগও ওঠে পাক সরকারের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা তুলছে পাকিস্তান। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইসলামাবাদ-কে নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত৷ এদিন পবন বাধে বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কাশ্মীর। কাশ্মীরের যে অংশ পাকিস্তান অধিকৃত সেই অঞ্চলে পুরোদমে চলছে জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ও জঙ্গিদের লঞ্চ প্যাড।

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা বিশ্ব অতিমারির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই মহামারির আবহে পাকিস্তান সরকার প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি জঙ্গিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে৷ সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বজায় রাখার জন্যই পাকিস্তান এই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দু’দিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় কাশ্মীর সহ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে শোনা যায়।

ইমরান বলেন, ভারত সরকারের দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা লুকাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেনাকে ব্যবহার করছে৷ বিভিন্ন দেশে মসজিদ ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। খুন করা হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে। তার কথায় বিশ্বের এই অতিমারির পরিস্থিতিতে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের পাক প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শুরু করার সাথে সাথেই সভা থেকে ওয়াক আউট করেন মিজিতো ভিনিতো। ইমরান খানের বক্তব্যের শেষে ভারত জানায়, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আছে ও থাকবে৷

এর পরই রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারতের স্থায়ী মিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি মিজিতো ভিনিতো বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭৫তম সাধারণ সভা এক নতুন ধরনের নীচুমানের কূটনীতির সাক্ষী হয়ে রইল। পাকিস্তানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, হিংসা ও বিদ্বেষে যারা প্ররোচনা দিচ্ছে তাদের হয়ে কথা বললেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রনেতা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই সভা এমন এক ব্যাক্তির দীর্ঘক্ষন বক্তব্য শুনল, যার কাছে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার মতো কোন বিষয় নেই। এবং তার কাছে বিশ্বের উপকার হবে এমন পরামর্শও নেই। তিনি বলেন, আমরা সভায় মিথ্যে ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক কিছু বিভ্রান্তিকর বক্তব্য শুনলাম।

ভারত তরফে ইমরান খান-কে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আজ যিনি রাষ্ট্রসঙ্ঘে বক্তব্য রাখলেন তিনি নিজেই ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীকার করেছিলেন যে, তার দেশ পাকিস্তানে এখনও ৩০ থেকে ৪০ হাজার জঙ্গি রয়েছে। এবং সেই সমস্ত জঙ্গিরা পাকিস্তানে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে আফগানিস্তান ও ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে হামলা চালাচ্ছে৷ পাকিস্তান হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষদের ধীরে ধীরে মেরে ফেলছে ৷ পাকিস্তান এমন একটি দেশ যেখানে নির্দিষ্ট এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের উপর দিনের পর দিন অত্যাচার করা হচ্ছে। আর তাদের মুখে ইসলামোফোবিয়ার কথা মানায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x