আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা নতুন করে বিপজ্জনক মোড় নিল। শুক্রবার ভোরে রাজধানী কাবুল-সহ আফগানিস্তানের একাধিক শহরে পাকিস্তানের বায়ুসেনা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লাগাতার বোমাবর্ষণের ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির খবর সামনে আসতেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই হামলার কড়া নিন্দা করে তালিবান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে—পাকিস্তান যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ না করে, তবে ইসলামাবাদ ও করাচির মতো বড় শহরও তাদের পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
কাবুল পুলিশের মুখপাত্র খালিদ জাদরান জানিয়েছেন, রাজধানী কাবুল ছাড়াও কন্দহর, পক্তিয়া এবং পক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের বায়ুসেনা বোমাবর্ষণ করেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার জেরে শিশু ও মহিলা-সহ অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।


এছাড়াও কন্দহর বিমানবন্দরের কাছে একটি তেলের ডিপোতেও আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিকেই নিশানা করছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এই হামলার পরই তালিবানের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। আফগানিস্তানের বল্খ প্রদেশের তালিবান গভর্নরের মুখপাত্র হাজি জাহিদ সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পাকিস্তান যদি এই হামলা অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে বড় ধরনের পাল্টা হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তাঁর দাবি, প্রয়োজনে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর—ইসলামাবাদ ও করাচিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।


উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় বারবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে উভয় পক্ষ।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়, যখন আফগানিস্তানের পক্তিকা প্রদেশে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তালিবানের দাবি, সেই হামলায় বহু সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।
এরপর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু করে তালিবান। তাদের দাবি, সীমান্ত লাগোয়া একাধিক পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে হামলা চালানো হয়েছে।


তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছে, তারা সাধারণ মানুষের উপর নয়, আফগানিস্তানে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠনগুলির ঘাঁটিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে জঙ্গিরা বারবার পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে, তাই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সামরিক অভিযান।







