‘খুঁজে বের করেই হত্যা করব’: খামেনেই-পুত্রকে নিয়ে ইজরায়েলের হুঙ্কার, বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ

খামেনেই-পুত্র মোজতবাকে হত্যার হুমকি ইজরায়েলের, ইরানে লাগাতার হামলা—রাশিয়া ও আমেরিকার ভূমিকায় বাড়ছে জল্পনা, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক মহল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নতুন করে ভয়াবহ মোড় নিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঘিরে জল্পনা, একের পর এক হামলা, আর তার মাঝেই সরাসরি হত্যার হুমকি—পরিস্থিতি ক্রমেই বিস্ফোরক। ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা, শত্রুপক্ষকে কোথাও লুকিয়ে থাকা অবস্থাতেও রেহাই দেওয়া হবে না। এই উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন ইরানের প্রভাবশালী নেতা মোজতবা খামেনেই।

ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ দাবি করেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন এবং তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই গুরুতর আহত। একইসঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানি ও গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খাতিবের মৃত্যুর কথাও জানানো হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই এখনও সম্ভব হয়নি, তবুও এই ঘোষণাই আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মোজতবা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে।” তাঁর বক্তব্য, মোজতবা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন, তবে বেশি দিন লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়।

এদিকে কুয়েতের সংবাদমাধ্যম আল-জারিদা দাবি করেছে, গুরুতর আহত অবস্থায় মোজতবাকে চিকিৎসার জন্য মস্কোয় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ান নাকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যবস্থা করেন। যদিও রাশিয়ার ক্রেমলিন এই বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য দেয়নি। প্রেস সচিব দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এ নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করবে না।

এর আগে খবর ছড়িয়েছিল, ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন মোজতবা। এমনকী, তাঁর মৃত্যু নিয়েও গুঞ্জন ওঠে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই দাবি খারিজ করে জানান, “তিনি সম্ভবত এখনও জীবিত।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি তাঁকে, ফলে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জারি রাখার ব্যাপারে অনড় ইজরায়েল। আইডিএফ স্পষ্ট জানিয়েছে, ইজরায়েলের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যে কোনও হুমকির কড়া জবাব দেওয়া হবে। শুধু ইরান নয়, তেহরানকে সমর্থনকারী সমস্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও নিশানা করা হবে।

বুধবারও ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি গ্যাস প্রসেসিং ইউনিটে বড়সড় হামলা চালায় ইজরায়েলি বায়ুসেনা। তাসনিম নিউজ এজেন্সির দাবি, পারা গ্যাসক্ষেত্রের একাধিক স্থানে আঘাত হানে এই হামলা, যার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের অভ্যন্তরে কোনও গ্যাসক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে এটি ইজরায়েলের প্রথম হামলা বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্রের খবর, এই অভিযানের আগে মার্কিন প্রশাসনের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ছিল ইজরায়েল। সেই অনুমোদন পাওয়ার পরই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের এই আগুন আরও ছড়াবে, নাকি কূটনৈতিক পথে সমাধান—এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর