ইরানের বিরুদ্ধে চলা সামরিক অভিযানে নতুন দাবি করল ইজ়রায়েল। ইজ়রায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, তেহরানের পাশাপাশি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে একাধিক F-14 যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও ঠিক কতগুলি যুদ্ধবিমান নষ্ট হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও প্রকাশ করেনি ইজ়রায়েলি সেনা।
আইডিএফের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু বিমানবন্দর নয়। ইসফাহান প্রদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকেও টার্গেট করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশও ধ্বংস করা হয়েছে, যা ইজ়রায়েলের বিমান বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছিল বলে দাবি করেছে তারা।


ইরানের সংবাদসংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বিভিন্ন শিল্পকারখানা এবং একটি রাইডিং বা ঘোড়দৌড় ক্লাব। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসফাহান প্রদেশের অন্তত আটটি শহরে হামলা হয়েছে। শহরগুলির মধ্যে রয়েছে ইসফাহান, নাজাফাবাদ, আরান, বিদগোল, বারখার, খোমেইনি শহর, শাহরেজা, ফালাভারজান এবং মোবারাকে।
আইডিএফ টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে, ইসফাহানের বিমানবন্দরে হামলার পাশাপাশি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে ‘কুদস ফোর্স’-এর অন্তত ১৬টি বিমান ধ্বংস করার দাবিও করেছিল ইজ়রায়েল।
ইসফাহান প্রদেশ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অঞ্চলে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানকে ঘিরে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের কৌশলগত আলোচনায় এই অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এদিকে তেহরান এবং তার পার্শ্ববর্তী আলবোর্জ প্রদেশেও তীব্র হামলার খবর মিলেছে। ইরানের ফার্স সংবাদসংস্থার দাবি, একটি তেলের ডিপোতে ইজ়রায়েলের হামলায় অন্তত চার জন ট্যাঙ্কার চালকের মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথ ভাবে ইরানের উপর সামরিক অভিযান শুরু করে। তারপর থেকেই পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।







