ভোটের আগেই নজরদারির জাল শক্ত করল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে কাজে নেমে পড়ছেন অবজারভাররা—যাঁরা কার্যত কমিশনের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করবেন। ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে একযোগে নজরদারি শুরু হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও কড়া নজরে আসছে। আগামীকাল থেকেই শুরু হবে বিধানসভা ভিত্তিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার কাজ।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক কাজ করবেন। পাশাপাশি থাকছেন ৮৪ জন পুলিশ অবজারভার এবং ১০০ জন ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক। সব মিলিয়ে বাংলায় মোট ৪৭৮ জন অবজারভার দায়িত্বে থাকছেন।
শুধু বাংলাই নয়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট পাঁচটি অঞ্চলে—চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে—ভোট পরিচালনার জন্য ২৫ লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৮৩২টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে মোট ১,১১১ জন পর্যবেক্ষক কাজ করবেন বলে জানিয়েছে কমিশন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছু সংবেদনশীল জেলায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনায় প্রতি তিন থেকে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে পুলিশ অবজারভার থাকবেন। কলকাতাতেও বাড়তি নজর—উত্তর কলকাতার সাতটি কেন্দ্রে তিনজন এবং দক্ষিণ কলকাতার চারটি কেন্দ্রে একজন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অবজারভারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলায় পৌঁছে কাজ শুরু করতে। ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারি না হলেও আগেভাগেই এই নজরদারি চালু করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনও রকম অনিয়ম বা অসংগতি না ঘটে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে এবারের নির্বাচন দু’দফায় অনুষ্ঠিত হবে—২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা হবে ৪ মে। তার আগেই গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কমিশনের এই কড়া নজরদারি যে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই যায়।



