নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভ্যাকসিনে গলদ নেই। অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা কোভিসিল্ডের ডোজের ফলে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এমন কোন প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়ে দিল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছে টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মহিলা, সেটা এই টিকার জন্যে নয়। অক্সফোর্ড জানিয়েছে ৩০ হাজার সেচ্ছাসেবকের ওপর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। তাঁদের মধ্যে একজনও অসুস্থ হয়ে পড়েননি।
আরও পড়ুনঃ মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার কি সম্পর্ক? বিশেষ প্রতিবেদন।


ভ্যাকসিনে গলদ নেই। অ্যাস্ট্রজেনেকার সিইও পাস্কাল সরিয়ট বলেছেন, “যদি ভ্যাকসিনে গলদ থাকত তাহলে অনেকেই অসুস্থ হতেন। কিন্তু কারও শরীরে কোন উপসর্গ দেখা দেয়নি।” অন্যদিকে যাবতীয় চিন্তার অবসান ঘটিয়ে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা জানিয়ে দিল সব রকম পরীক্ষা সাফল্যের সাথে উতরেছে অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাক্সিন কোভিশিল্ড। অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, “বিশ্বজুড়ে সর্বত্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ট্রায়াল। ব্রিটিশ কমিটি বিষয়টি তদন্তের জন্য MHRAতে পাঠিয়েছিল। MHRA তদন্তের পর ফের ট্রায়াল চালুতে অনুমতি দিয়েছে।”
উল্লেখ্য আমেরিকাতে প্রায় ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের উপর এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাচ্ছিল ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। কিন্তু ট্রায়ালের মাঝেই এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রায়াল। সেচ্ছাসেবিকা টিকা নেওয়ার পরে তাঁর শরীরে স্নায়বিক রোগের লক্ষণ দেয়। তবে এখন তিনি প্রায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসকদের দাবি তিনি ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস (Transverse myelitis) রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মেডিসিনস হেলথ রেগুলেটরি অথরিটি (MHRA) এই টিকা পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়ার পর ফের ভরসা জেগেছে সমগ্র বিশ্ববাসীর মধ্যে। ওই ওষুধ পরীক্ষার পর জানানো হয়েছে, কোভিশিল্ড সম্পূর্ণ নিরাপদ। ভারতেও সেরাম ইন্সটিটিউট অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত তথা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করছে। কমবেশী ২ মাস লাগবে ট্রায়ালের ফলাফল সামনে আসতে।


উল্লেখ্য, করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে বেশ কিছুদিন আগেই সুখবর দিয়েছে অক্সফোর্ড। ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নাল জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিন ChAdOx1 মানবশরীরের পক্ষে নিরাপদ এবং করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। দাবি করা হয়েছে এই ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজেই ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরী হয়েছে। ল্যানসেট জার্নাল জানিয়েছে, ১০৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই T-Cell সক্রিয় হয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।







