মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার কি সম্পর্ক? বিশেষ প্রতিবেদন।

মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার কি সম্পর্ক? বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রিয়ঞ্জিতা চক্রবর্তীঃ মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার কি সম্পর্ক? মা দূর্গার মুখের ছবি দিয়ে শুভ মহালয়া লিখে পোস্টে পোস্টে ছেয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া। বাঙালির কাছে মহালয়া মানেই তো দেবীর আগমনীর শুরু, শারদোৎসবের সূচনা। খড়ের গাদায় সূঁচ খুঁজে পাওয়া দুরূহ কর্ম। তার থেকেও দুরূহ কাজ হলো এই পূর্ণ তিথিতে রেডিওতে মহালয়া না শোনা বাঙালিদের খুঁজে বের করা।

আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে করোনা যুদ্ধে শহিদ হলেন ৩৮২ জন চিকিৎসক।

এই গৌড় চন্দ্রিকার পর যদি শোনেন কোনো তাত্বিক বা তার্কিক বলছেন রেডিওতে যেটা শুনছেন সেটা আদৌ মহালয়া নয়, ওটা আকাশবাণী কলকাতা প্রযোজিত মহিষাসুর মর্দিনী নামের একটি অনুষ্ঠান,যার সাথে মহালয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। কাকতালীয় ভাবে এই বিশেষ দিনে অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয় এই আর কি। এমনকি মহালয়ার সাথে দুর্গাপূজার আদৌও কোনো সম্পর্ক নেই।

এমনতর কথা শুনে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ ওঠা স্বাভাবিক। তাই নজরবন্দির ডিজিটাল ওয়ালে আপনাদের জন্য তুলে ধরছি মহালয়ার মাহাত্ম্য। প্রতি বছর মহালয়ার ভোরে শ্রদ্ধেয় বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের- “আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মন্ঞ্জরী” বলে শুরু করলেও পঞ্জিকা মতে সেই দিনটি মুখ্য চন্দ্র ভাদ্রমাসের অমাবস্যা তিথি। তবে এর থেকে এটা প্রতিপন্ন করা যায় না যে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র ভুল বলেনি কারণ সাধারণত প্রতি বছরই এই বিশেষ তিথিটি গৌনচন্দ্র আশ্বিন মাসে গিয়েই পড়ে।

মহালয়ার অমাবস্যাতে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে। কৃষ্ণা প্রতিপদ তিথি থেকে টানা পনেরো দিন ধরে চলা পিতৃপরুষদের তর্পণ ক্রিয়া সমাপনের মধ্যে দিয়ে। এইদিন অমৃতলোকে গমনকারী পূর্বপুরুষেরা তাদের উত্তরপুরুষদের শ্রদ্ধা গ্রহণ করতে তাদের বাড়িতে আসেন বলেই বাড়িটি শুধু আলয় বা বাড়ি থাকে না,সেটি মহা আলয় হয়ে যায়।এই মহা আলয় কথাটি থেকেই তিথিটির নাম হয়েছে মহালয়া। অনেকেই মনে করে মহালয়া মানেই দেবীপক্ষের সূচনা এটি একেবারেই ভুল কথা।

অমাবস্যা ছেড়ে আশ্বিনমাসের শুক্লপক্ষের প্রতিপদ পড়লে তবেই দেবীপক্ষের সূচনা হয়।শুরু হয় মা দূর্গোতিনাশিনীর প্রতিপদাতি কল্পারম্ভ বিহিত পূজা। মহালয়ার সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে আছে মহাভারতের এক প্রাচীন গাঁথা। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে মৃত্যুর পর কর্ণের বিদেহী আত্মা পরলোকে গমন করেন। সেখানে তাঁকে খাদ্য হিসাবে দেওয়া হয় স্বর্ন ও রত্ন। কর্ণ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে প্রত্যুত্তরে বলা হয় তিনি জীবিতকালে প্রচুর স্বর্ন ও রত্ন দান করেছেন কিন্তু প্রয়াত পিতৃপুরুষগনের উদেশ্যে কখনো খাদ্য ও পানীয় দান করেন নি।

তাই স্বর্গে খাদ্য হিসাবে তাঁকে সোনাই দেওয়া হয়। এই কথা শুনে বিমর্ষ কর্ণ বললেন কে বা কারা তাঁর পূর্ব পুরুষ সেটা মৃত্যুর মাত্র একদিন পূর্বে তিনি অবগত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর দোষ কোথায়? যমরাজ তখন কর্ণের এই যুক্তিকে ন্যায্য বলে গন্য করেন এবং কর্ণকে পক্ষকালের জন্য পুনরায় মর্ত্যে ফিরে গিয়ে পিতৃগনের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেন।পক্ষকাল পিতৃপুরুষদের অন্নজল দান করে পুনরায় কর্ণ পরলোকে প্রত্যাগমন করেন। কৃষ্ণা প্রতিপদ থেকে মহালয়ার অমাবস্যায় এই পক্ষকালে হিন্দু শাস্ত্রে পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত। আর এই গাঁথাকে কেন্দ্র করেই পিতৃপক্ষের তর্পণের প্রথা চালু হয়।শাস্ত্রানুসারে যেহেতু এই তিথিটি বিশেষ পারলৌকিক ক্রিশাকর্মের তিথি হিসাবে নির্দিষ্ট তাই একে শুভ মহালয়া বলা সমীচীন নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x