২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-এ ইত্তেহাদুল মুসলমিন (AIMIM) বিশেষ ফল করতে পারেনি। দলের প্রার্থীরা রাজ্যে সাতটি আসনে লড়লেও, সেই আসনগুলোতে তারা জয়ী হতে পারেনি এবং শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কেও খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে, আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং তাঁর দল একেবারে হার মেনে নেয়নি। আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন ওয়েইসি।
ওয়েইসির দাবি, গত চার বছরে AIMIM রাজ্যের তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করেছে। বর্তমানে বাংলায় AIMIM-এর ৩ লক্ষ সদস্য রয়েছে। দলটি ইতিমধ্যেই ব্লক স্তরে প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং তারা ২০২৬ সালে নির্বাচনে বড় চমক দিতে প্রস্তুত, এমনটাই জানিয়েছেন ওয়েইসি। তাঁর মতে, রাজ্যে মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের বিশাল অংশ রয়েছে এবং AIMIM এই ভোটব্যাঙ্ককে টার্গেট করতে চায়।


মালদহ-মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গে শক্তি বৃদ্ধি
ওয়েইসি দাবি করেছেন যে, মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গে AIMIM-এর ভালো জনভিত্তি তৈরি হয়েছে। এসব এলাকায় দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং সেই ভিত্তি তারা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে। এদিকে, AIMIM-এর মুখপাত্র ইমরান সোলাঙ্কি দাবি করেছেন, রাজ্যের অনেক বিধানসভায় মুসলিম ভোটের হার এখন ৪০ শতাংশের বেশি। তাই AIMIM রাজ্যের সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে নজর: AIMIM বনাম বিজেপি এবং তৃণমূল


এআইএমআইএমের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, AIMIM-এর লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাগ বসানো, যা বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। যদিও, ওয়েইসি দাবি করেছেন যে তাঁর দল বিজেপির বি টিম নয়। তিনি মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি হিন্দু-মুসলমানের রাজনীতি করছেন, যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
এআইএমআইএমের দলের শক্তি এবং রাজ্য রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে ভবিষ্যতেও অনেক আলোচনা হবে। ছাব্বিশের নির্বাচনে তাদের ফলাফল কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।
AIMIM-এর পূর্বের নির্বাচন অভিজ্ঞতা
এর আগে, AIMIM মহারাষ্ট্র, দিল্লি, এবং বিহার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল এবং সংখ্যালঘু ভোটে তাদের উপস্থিতি অনুভূত হয়েছিল। যদিও বাংলায় তারা বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাদের নতুন পরিকল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা আনতে পারে।







