ধর্ম বা রাজনীতির সীমারেখা পেরিয়ে দেশ যখন সন্ত্রাসের শিকার, তখন একজোট হওয়াটাই সত্যিকারের দেশপ্রেম। আর সেটাই ঘটতে চলেছে আসন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে। পাকিস্তান পৃষ্ঠপোষক জঙ্গি হামলা ও পহেলগাঁও সন্ত্রাসের প্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে এবার কেন্দ্রীয় সরকার সর্বদলীয় প্রতিনিধি দল পাঠাতে চলেছে। আর সেই দলের অন্যতম মুখ হতে চলেছেন AIMIM প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি।
বিজেপির কট্টর সমালোচক এবং হিন্দুত্ববাদের বিরোধী হিসেবেই পরিচিত হায়দরাবাদের সাংসদ ওয়েইসি এবার দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক মতবিরোধ ভুলে নরেন্দ্র মোদির ডাকে সাড়া দিয়েছেন।


সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বদলীয় কূটনৈতিক লড়াই
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও পহেলগাঁও হামলার পর ভারত স্পষ্টভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ এনেছে। সেই অভিযোগকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে শাসক ও বিরোধী দল মিলিয়ে একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠানো হচ্ছে।
সরকার মনে করছে, ওয়েইসির মতো সংখ্যালঘু ও শিক্ষিত নেতা আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের কৃতকর্ম তুলে ধরলে তার বার্তা হবে আরও জোরালো। কারণ পাকিস্তান সবসময় মুসলিম পরিচয়কে ঢাল করে নিজেদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ঢাকতে চায়।


ওয়েইসির অবস্থান স্পষ্ট: “দেশ আগে, রাজনীতি পরে”
ওয়েইসি এক সাক্ষাৎকারে বলেন,“পাকিস্তানের সন্ত্রাস কোনও নতুন বিষয় নয়। কান্দাহার, উরি, পাঠানকোট থেকে শুরু করে পহেলগাঁও পর্যন্ত, সব ক্ষেত্রেই পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দিয়েছে। আমাদের সেটা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন,“পাকিস্তান নিজেদের মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে তুলে ধরতে চায়। অথচ ভারতে ২০ কোটির বেশি মুসলমান শান্তিপূর্ণভাবে বাস করে। সেটাও গোটা বিশ্বকে জানাতে হবে।”
ওয়েইসিকে কেন বেছে নিল মোদি সরকার?
তিনি দক্ষ আইনজীবী ও সুবক্তা। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে সুদক্ষ জ্ঞান রয়েছে।রাজনৈতিক শত্রু হলেও, পাকিস্তান-বিরোধী অবস্থানে সোচ্চার। সংখ্যালঘু প্রতিনিধি হিসেবে তার বক্তব্যে বিশ্ব দরবারে বাড়তি গুরুত্ব পাবে।







