লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনল কংগ্রেস। বিরোধী জোটের একাধিক দল সেই প্রস্তাবে সই করলেও, কংগ্রেসের শর্ত না মানার অভিযোগ তুলে তাতে সই করল না তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে বিরোধী শিবিরের মধ্যেই মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এল।
গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপর সম্ভাব্য শারীরিক হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে অধিবেশন মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। এই সিদ্ধান্তে কংগ্রেস-সহ একাধিক বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বাজেট অধিবেশনে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদদের বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতিতে স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।


সংবিধানের ৯৪(সি) ধারায় লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের বিধান রয়েছে। তবে তার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন প্রয়োজন। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাবের নোটিস অন্তত ১৪ দিন আগে দিতে হয়। ফলে বাজেট অধিবেশনের প্রথম অংশে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সূত্রের খবর, এই অনাস্থা প্রস্তাবে প্রায় ১২০ জন বিরোধী সাংসদ সই করেছেন। কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকে ও সমাজবাদী পার্টির সাংসদরাও তাতে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তৃণমূল আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের শর্ত না মানলে এই প্রস্তাবে সই করা হবে না।
লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে তাঁদের আপত্তি নেই। কিন্তু প্রস্তাব আনার আগে চারটি নির্দিষ্ট দাবি লিখিতভাবে স্পিকারকে জানাতে হবে। সেই দাবিগুলির উত্তর দেওয়ার জন্য স্পিকারকে অন্তত দু’ থেকে তিন দিন সময় দিতে হবে। তার পরেও যদি সমাধান না হয়, তবেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা উচিত।


তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস যদি তাড়াহুড়ো করে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চায়, তাহলে তৃণমূল তাতে সই করবে না। বিজেপি-বিরোধিতায় তৃণমূল আপস করবে না, কিন্তু কংগ্রেসের ‘দাদাগিরি’ও মেনে নেওয়া হবে না—এই বার্তাই স্পষ্ট করেন অভিষেক।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ইস্যুতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের দূরত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ ছিল তৃণমূলের মধ্যে। সেই প্রেক্ষিতেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।







