‘অপারেশন সিঁদুর’ থামাতে আমেরিকার কাছে বারবার সাহায্য চেয়েছিল পাকিস্তান, মার্কিন নথিতে মিলল প্রমাণ

ভারতের অভিযানের পর ওয়াশিংটনে টানা যোগাযোগ ইসলামাবাদের, প্রকাশ্যে আসা মার্কিন নথিতে উঠে এল সংঘর্ষবিরতি ঘিরে প্রকৃত ছবি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল পাকিস্তান—এমনই দাবি উঠে এল এক মার্কিন সরকারি নথিতে। ওই নথি অনুযায়ী, ইসলামাবাদ থেকে একটানা ফোন ও ইমেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে ভারতীয় সামরিক অভিযান থামানো যায়।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তারা এই নথি খতিয়ে দেখেছে। আমেরিকার Foreign Agents Registration Act (FARA)-এর আওতায় জমা দেওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান অন্তত ৫০ বার মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল।

নথি অনুযায়ী, এই যোগাযোগের বড় অংশই হয়েছিল ‘লবিস্ট’ বা মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে। বিশেষ করে ‘স্কোয়্যার প্যাটন’ নামের একটি পাকিস্তানি লবিং সংস্থার সূত্রে এই তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, ইসলামাবাদের আশঙ্কা ছিল—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না করে কেবল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন এবং ফের আঘাত হানতে পারেন।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সংঘর্ষবিরতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন মোড় নিল। পাকিস্তান বরাবরই দাবি করে এসেছে যে, প্রথমে ভারতই সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু ভারতের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—পাকিস্তানই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির আর্জি জানায়। নতুন মার্কিন নথি কার্যত নয়াদিল্লির সেই বক্তব্যকেই সমর্থন করল বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করতে ছ’টি লবিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল পাকিস্তান। এই লবিং কার্যক্রমে প্রায় ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয় বলেও দাবি ওঠে।

ঘটনাচক্রে, ওই লবিং চুক্তির কিছু সপ্তাহ পরেই হোয়াইট হাউসে গিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। নিউ ইয়র্ক টাইমস আরও জানায়, অপারেশন সিঁদুরের সময়কালেই—এপ্রিল ও মে মাসে—লবিংয়ের খরচ বাড়ানো হয়েছিল।

সব মিলিয়ে, সদ্য প্রকাশ্যে আসা এই মার্কিন নথি দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল এবং সংঘর্ষবিরতি প্রশ্নে ভারতের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও জোরালো করল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত