নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের বাকি মাত্র ৩৮ দিন, বাতাসে এখন পুজো পুজো গন্ধ, মা আসার অধীর অপেক্ষায় বাঙালির দিন গোনা শুরু। প্রায় অর্ধেকের বেশি কাজ হয়ে গিয়েছে পুজো প্যান্ডেল গুলিতে। সেই সুবাদেই গতকাল, সোমবার বিকেলে পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করলেন, এ বার ৪৩ হাজার পুজো কমিটিকে ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলেও মিলবে ছাড়।
আরও পড়ুনঃ দিদির ডাকে সাড়া ইউনেস্কো কর্তাদের, পুজোর মহামিছিলে হাঁটবেন তাঁরাও


দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসব হল দেবী দুর্গার পুজোকে কেন্দ্র করে প্রচলিত একটি উৎসব। এই দুর্গাপুজো সমগ্র্র্র ভারতে প্রচলিত। তবে বাঙালি সনাতনী সমাজে এটি অন্যতম বিশেষ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। যার জন্যে ৩৬৫ দিনের অপেক্ষায় থাকে বাঙালি। আশ্বিন বা চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে দুর্গা মহাপুজো করা হয়। বছরে মূলত চারটি নবরাত্রি আসে। তার মধ্যে আশ্বিনের নবরাত্রি পুজো শারদীয় পুজো এবং বসন্তের নবরাত্রির পুজো বাসন্তীক দুর্গাপুজো নামে পরিচিত।

দুর্গাপুজো ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল সহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও বিশ্বের একাধিক রাষ্ট্রে পালিত হয়ে থাকে। তবে হিন্দু বাঙালীর প্রধান উৎসব হওয়ার দরুন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ও বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বিশেষ জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। এমনকি ভারতের অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মণিপুর এবং ওড়িশা রাজ্যেও দুর্গাপুজো মহা সমারোহে পালিত হয়ে থাকে।
দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। জন্মাষ্টমীর দিন চিরাচরিত প্রথা মেনেই শুরু হয়ে গেল পুজোর কাউন্টডাউন। তার মধ্যেই এবার সাড়ম্বরে পালিত হল কাঠামো পুজো। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পর্যন্ত শারদীয়া দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচটি দিন যথাক্রমে ‘দুর্গাষষ্ঠী’, ‘মহাসপ্তমী’, ‘মহাষ্টমী’, ‘মহানবমী’ ও ‘বিজয়াদশমী’ নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় ‘দেবীপক্ষ’। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করে। দেবীপক্ষের শেষ দিনটি হল কোজাগরী পূর্ণিমা।



ইতিমধ্যেই ২০২২ সালের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) সেই নির্ঘণ্ট পোস্ট করা হয়েছে। ২ অক্টোবর, সপ্তমীর দিন ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ পুজো শুরু হবে। এরপর ৩ অক্টোবর, মহাষ্টমীর (Ashtami) দিনও ভোর সাড়ে ৫ টায় পুজো শুরু হবে। কুমারী পুজো (Kumari Puja) হবে সকাল ৯ টা থেকে। এরপর মহাষ্টমীর বিকেলে ৪ টে ১৪ মিনিট নাগাদ শুরু হবে সন্ধিপুজো (Sandhi Puja)। চলবে বিকেল ৫ টা ২ মিনিট পর্যন্ত।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের বাকি মাত্র ৩৮ দিন, জানুন এবারের পুজো নির্ঘণ্ট

পরদিন অর্থাৎ মহানবমীতে (Navami) ভোর সাড়ে ৫ টা নাগাদ পুজো শুরু হবে। ওইদিন দেবী দুর্গার সামনে ভোগ নিবেদন করা হবে। সন্ধ্যায় আরতি হবে। দেবী দুর্গার সামনে পুষ্পাঞ্জলীও দিতে পারবেন ভক্তরা। কোভিডকালে (Covid 19) একাধিক বিধিনিষেধ জারি ছিল। ফলে চলতি বছর অসংখ্য ভক্তের ঢল নামবে বলেই মনে করছে কর্তৃপক্ষ।







