নজরবন্দি ব্যুরোঃ আবেদনের ভিত্তিতে বাড়ির কাছে বদলি। শিক্ষকদের সুখবর শিক্ষামন্ত্রীর। করোনা আবহে সারাদেশের মতো গোটা রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভয়াবহ। প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ – পঞ্চান্ন জনের মৃত্যু হচ্ছে পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন গড়ে ৩ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, বিগত প্রায় সাড়ে ৬ মাস ধরে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে পঠন-পাঠন বন্ধ রয়েছে। তবে মিড-ডে-মিল সংক্রান্ত কাজে এবং অন্য বেশকিছু অফিশিয়াল প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষক অথবা অন্যান্য সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যান্য দপ্তরের ন্যায় শিক্ষা দপ্তরের কাজকর্ম বেশ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ব্যাপকভাবে বাড়ল সংক্রমণ! পুজোর আগেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ?


এই পরিস্থিতিতেও, শিক্ষা দপ্তর থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির ক্ষেত্রে স্পেশাল গ্রাউন্ডে একটির পর একটি তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ ‘নিজের জেলায় বদলি নিয়ে’ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে প্রায় ৯ মাস হতে চললেও সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির ব্যাপারে কোনো রকম সদর্থক পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযগ শিক্ষকদের। এতে বদলিপ্রার্থী রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে ক্ষোভ জন্মাচ্ছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন, শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাধারণ বদলির ব্যাপারে সরকার কি সত্যিই আন্তরিক!
এদিন শিক্ষকদের মিউচুয়াল ট্রান্সফারের একটি পোর্টাল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি সুখবর দিলেন শিক্ষকদের। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক বদলি নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এবার থেকে অনলাইনেই করা যাবে বদলির আবেদন। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বদলিতে আগ্রহী শিক্ষকদের থেকে নেওয়া যাবে না কোন টাকা।
একাধিকবার বদলি হতে চাওয়া শিক্ষকদের থেকে টাকা দাবি করার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাই বদলির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে আজ শিক্ষামন্ত্রী জানান, “মিউচুয়াল ট্রান্সফারের পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষকরা বদলির আবেদন করতে পারবেন। যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছেন সাতদিনের মধ্যে তাঁদের সেই আবেদন মঞ্জুর হবে। আজ পার্থবাবু জানান, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলের ছাত্র ও শিক্ষকের অনুপাত খতিয়ে দেখে বদলি মঞ্জুর করা হবে শিক্ষকদের।


আগে বদলির সময় স্কুল কর্তৃপক্ষ অথবা স্কুল পরিদর্শকের কাছ থেকে এনওসি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট নিতে হত। আর সেই সার্টিফিকেট হাতে পেতে শিক্ষকদের অনেক সমস্যা পোহাতে হত। আজ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, ওই সার্টিফিকেটের জন্য কোনও শিক্ষককেই হেনস্তা করা যাবে না। পাশপাশি শিক্ষামন্ত্রী জানান, এনওসি বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেটও বদলিতে প্রয়োজন হবে না এমন ব্যাবস্থা করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই।







