বাংলা পরিদর্শনের পর রিপোর্ট কমিশনের। ভোট ঘোষণার দিনই রাজ্যে আসছে পর্যবেক্ষক দল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলা পরিদর্শনের পর রিপোর্ট কমিশনের। ভোটের আগে প্রতিবারই উত্তপ্ত থাকে রাজ্য রাজনীতি। তবে এবার ভোট পুর্ব বাংলার পরিস্থিতি কিছু বেশি উত্তপ্ত। অন্যবারের নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচন পরিস্থিতি অনেক বেশি স্পরশকাতর হপয়ে উঠছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঠিক সেই কারণেই ভোট পুর্ব বাংলায় রাজ্য সফরে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। নেতৃত্বে রয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিসনার সুনীল আরোরা। প্রায় তন দিন ধরে বাংলায় থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

আরও পড়ুনঃ ‘কলকাতায় কেন এত রাজনৈতিক হিংসা?’, নির্বাচন কমিশনের রোষের মুখে অনুজ শর্মা

৩ দিন ধরে রাজ্যে একাধিক বৈঠক করে রাজ্য ছাড়ার আগে রাজ্যের প্রতি বেশ কয়েকটি কড়া বার্তা দিয়ে গেছে কমিশন। জার মধ্যে অন্যতম হল, এবার রাজ্য নির্বাচনের আগে ভাগেই আসছে বিশেষ পর্যবেক্ষক। এতদিন ভোট ঘোষণা হওয়ার বেশ কিছুদিন পর ওটের ঠিক আগে আগে আসত পর্যবেক্ষক দল, এবার ভোটের ঘোষণার দিনই রাজ্যে আসছে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল। এবং প্রতিবারই রাজ্যে আসা পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয় পরের বারের ভোটের আগের পদক্ষেপ।

যেমন ২০০৬ সালের ভোটের আগের রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০০৯ সালের নির্বাচনের আগে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল কমিশন। এবার ভোটের বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই বেশ উত্তপ্ত বাংলার পরিবেশ। তাই ইতিমধ্যে ৩ দিনের বাংলা সফরে ঘুরে গেছেন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। যাওয়ার আগে দিয়ে গেলেন বেশ কিছু কড়া দাওয়াই। এমনকি ঘোষণা করে দিয়ে গেলেন ভোটের দিন ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যে আসতে চলেছে পর্যবেক্ষক দল।

৩ দিনের নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষনের পর কমিশন সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে বন্ধ হথাকবে বাইক র্যা লি। পযেকন পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনি। ভোটের সময়ে রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন নিয়ে রাজ্য পুলিশের সঙ্গে ক্লোজ কো-অর্ডিনেশন করবেন কোনও নোডাল অফিসার। তবে বিরোধীদের দাবি মেনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের দু-তিন মাস আগে এই রাজ্যে আসছে না।

ভোটের সময়েই বাংলায় আসবে তাঁরা। ভোটের আগে পাল্লা দিয়ে দলবদল চলছে রাজ্যে। তৃণমূলের প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রীরা দলত্যাগ করে একে একে যোগ দিচ্ছেন বিজেপিতে। তাঁর ফলে শাসক-বিরোধী দ্বন্দের সঙ্গে সঙ্গেই বাংলায় শুরু হয়েছে দলের ভেতরের গোষ্ঠী দ্বন্দ। আর তাঁর ফলে প্রতি বেলাতেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পার্টি অফিস থেকে সভা মঞ্চ সর্বত্র চলছে অশান্তি। সেই কারণেই কমিশনের তরফ থেকে বাংলার আইনশৃঙ্খলার ওপর বাড়তি নজর রাকঘার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সব থেকে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হলো যে এবারের নির্বাচনে তিনজন অবজারভার থাকবেন রাজ্যে।

একজন স্পেশাল অবজারভার আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখার জন্য, একজন এক্সপেন্ডিচার অবজারভার থাকবেন ভোটের আয়ব্যায়ের হিসাব দেখার জন্য এবং একজন জেনারেল অবজারভার থাকবেন। এরই পাশাপাশি কমিশন জানিয়েছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিএসএফ-কে নিয়ে কমিশনের কাছে যে অভিযোগ করেছিলেন সেটা যেমন দুর্ভাগ্যজনক তেমনি দিলীপ ঘোষ ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম ঢোকার যে দাবি করেছিলেন তারও কোন প্রমান বা ভিত্তি নেই। তৃণমূলের তরফে পার্থ চট্টোপাধ্যায় কমিশনে কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে বিএসএফের সেনা ও আধিকারিকেরা সাধারন মানুষকে নির্দিষ্ট একটি দলকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বিজেপির তরফে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন যে রাজ্যের ভোটার তালিকায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন শাসকদল। যদিও কমিশন এই দুই অভিযোগই খারিজ করে দিয়েছে। এসবের বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিশন ভোটার পিছু ভোট কেন্দ্রও স্থির করে দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। কোভিডের কারনে এবারে হাজার জন ভোটার পিছু একটি করে বুথ করা হচ্ছে। তার জেরে নতুন করে ২২ হাজার বুথ বাড়ছে রাজ্যে। সেই হিসাবে মোট বুথের সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ১ লক্ষ ১ হাজার। সেই সঙ্গে কমিশন এটাও জানিয়েছে, এবারে সমস্ত বুধ এবার গ্রাউন্ড ফ্লোরে হবে। রাজ্যের তরফে দেওয়া কোভিড সংক্রান্ত সকল রিপর্টে খুশি কমিশন। তবে কমিশনের এই তৎপরতায় একদিকে যেমন খুশি একপক্ষ, তেমনি অন্যপক্ষ মনে করছে এই তৎপরতা সত্বেও ভোটে আদেউ কী কিছু করতে দেওয়া হবে কমিশনকে? থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত