নজরবন্দি ব্যুরো: জুনিয়র সহপাঠীকে র্যাগিং করে গ্রেফতার হয়েছেন। পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে প্রিজন ভ্যানে করে। অথচ ঔদ্ধত্য কমার বিন্দুমাত্র লক্ষণও নেই শরীরে! বরং পুলিশের ভ্যানে উঠে সংবাদমাধ্যমের দিকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করলেন যাদবপুরকাণ্ডে ধৃত এক পড়ুয়া। আর তাঁর এই আচরণে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে।
যাদবপুরকাণ্ডে আগে ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মধ্যেই একজনকে যখন পুলিশ তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তোলে সেই সময় ‘মধ্যমা’ (Middle Finger) উঁচিয়ে দেখায় সে। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ সিসিটিভির বিরোধিতা করে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। আর এবার গ্রেফতারির পরেও উদ্ধত আচরণ করে বেকায়দায় পড়লেন এই পড়ুয়া।
বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও সাহিত্যকে ভালোবেসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়তে এসেছিলেন নদীয়ার বগুলা গ্রামের একটি ছেলে। দু’চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। অথচ যাদবপুরের মতো প্রতিষ্ঠানে সে শিকার হল র্যাগিংয়ের। নগ্ন করে রেলিংয়ের ওপর হাঁটতে বাধ্য করা হল তাঁকে। সেখান থেকেই মৃত্যু হল সেই স্বপ্ন দেখা কিশোরের।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্রমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ক্রমশই জোরালো হচ্ছে র্যাগিং তত্ত্ব। পুলিশ কার্যত নিশ্চিত যে, র্যাগিং করার ফলেই নদীয়ার বগুলা গ্রামের সেই নিষ্পাপ ছেলেটির মৃত্যু হয়েছিল। পার হয়েছে এক সপ্তাহ। এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আগে যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁদের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদলত।
শুক্রবার যে নতুন ৩ জন গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁদের আজ আদালতে তোলা হবে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করে। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ধৃত ছাত্রদের হস্টেলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, অনেকের বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় একসঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

এখনও পর্যন্ত যে ১২ জন ছাত্র গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরী, নাসিম আখতার, হিমাংশু কর্মকার ও সপ্তক কামিল্যা, পড়ুয়াদের মধ্যে রয়েছেন দীপশেখর দত্ত, মনোতোষ ঘোষ, অসিত সর্দার, সুমন নস্কর, মহম্মদ আরিফ , আসিফ আফজল আনসারি, অঙ্কন সরকার, সত্যব্রত রায়।



