‘ঝড় বা মুশকিলের আভাস পেয়ে জাহাজ পাল্টানোর মানুষ আমি নই’, শুভেন্দুকে কটাক্ষ নুসরতের

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: ‘ঝড় বা মুশকিলের আভাস পেয়ে জাহাজ পাল্টানোর মানুষ আমি নই’, শিয়রে একুশের নির্বাচন। আসন্ন এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে চড়ছে রাজ্য রাজনীতির পারদ। এদিকে বঙ্গে নিজেদের ঘাঁটি আরও মজবুত করতে দুদিনের সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় বিজেপিতে যোগদান করেন অন্যান্য দলের এক ঝাঁক সাংসদ-বিধায়ক ও কর্মী-সমর্থক।

আরও পড়ুনঃ অমিত শাহের বিশ্বভারতী পরিদর্শনকে অরাজনৈতিক রাখতে চাই কর্তৃপক্ষ

এদিকে সকলকে চমকে দিয়ে এবং সকল সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী আবহে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার বিজেপিতে যোগদান তৃণমূলের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়াচ্ছে। কিন্তু তাতে গুরুত্ব দিতে নারাজ অভিনেত্রী তথা বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। এক সাক্ষাৎকারে নুসরত বলেছেন, ”ঝড় বা মুশকিলের আভাস পেয়ে জাহাজ পাল্টানোর মানুষ আমি নই। যাদের রাজনৈতিক আদর্শ রাতারাতি পাল্টে যায়, মানুষকে তাদের জবাব দিতে হবে। ৫-১০ বছর মন্ত্রী-বিধায়ক থেকে হঠাৎ নির্বাচনের ৪ মাস আগে কী হল সেটা কি ভাবার বিষয়? জনগণ সবটাই বুঝতে পারে।”

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের দলত্যাগী একাধিক নেতা-নেত্রী অভিযোগ তুলেছেন দলের অন্দরে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে তৃণমূলে থেকে সত্যিই কি মানুষের জন্য কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে? এই প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন নুসরত। তাঁর বক্তব্য, ”কাজ করার স্বাধীনতা কি ৪ মাস আগে হঠাৎ করেই চলে গেল? গত ১০ বছর ছিল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মানুষের জন্য কাজ করার কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু কারও নিজের লাভের সমস্যা হতেই পারে।

কারণ দিদি সব জানেন, সব খবর রাখেন।” উল্লেখ্য, শনিবার মেদিনীপুরের সভামঞ্চ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে একাধিক তোপ দাগেন শুভেন্দু। সেই সঙ্গে নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধেছেন তিনি। ‘তোলাবাজ ভাইপো হঠাও’ স্লোগান তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি দলবদলের পর একাধিক নেতা অভিযোগের আঙুল তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। রাজনীতির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অভিষেককে নিয়ে ক্রমশই দলে ক্ষোভ বাড়ছে।

অনেকেই বলছেন তাঁর জন্যই তৃণমূলে অনেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। যদিও এ বিষয়ে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে নাম না করে শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই আক্রমণ শানালেন নুসরত। নুসরত বলছেন, ”দলে বর্ষীয়ান নেতারা অভিজ্ঞতা আনেন আর নতুন প্রজন্ম আনে নতুন কৌশল। একটা দলে এই ২টো জিনিসেরই সমান ভারসাম্য থাকা দরকার। সমস্যা খুঁজলে ১০০০ টা পাওয়া যাবে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা উচিত।

‘ঝড় বা মুশকিলের আভাস পেয়ে জাহাজ পাল্টানোর মানুষ আমি নই’, লোকজনের প্রশান্ত কিশোরকে নিয়েও সমস্যা, তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করছেন। তাঁরা কি জানেন না পিকের অতীত কী? পিকে একজন পেশাদার ভোটকুশলী। ২০১৪ সালে বিজেপির জাতীয় স্তরে প্রচারের সমস্ত কৃতিত্ব ছিল সম্পূর্ণ পিকের সংস্থা আইপ্যাকের।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন