আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠলেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো (Maria Corina Machado)। তিনি জিতে নিয়েছেন (Nobel Peace Prize 2025)—এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়, এই সম্মান তিনি উৎসর্গ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)-কে। তাঁর মতে, ভেনেজ়ুয়েলার স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে ট্রাম্প ছিলেন “প্রধান মিত্র”।
কেন মারিয়াকে (Nobel Peace Prize 2025) দেওয়া হল
চলতি বছর শান্তি পুরস্কারের জন্য ৩৩৮টি নাম মনোনীত হয়েছিল, যার মধ্যে ৯৪টি ছিল বিভিন্ন সংগঠনের। দৌড়ে ছিলেন ট্রাম্পও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি নির্বাচিত করে মারিয়া মাচাদোকে, যিনি বছরের পর বছর ধরে ভেনেজ়ুয়েলার ভাঙা বিরোধী শিবিরকে একত্রিত করেছেন।


কমিটির চেয়ারম্যান জর্জেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস (Jørgen Watne Frydnes) বলেন, “ভেনেজ়ুয়েলার অন্ধকার সময়ে গণতন্ত্রের প্রদীপ জ্বেলে রেখেছিলেন মারিয়া। তিনি বিরোধী শিবিরকে ঐক্যবদ্ধ করে অবাধ নির্বাচন ও জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের দাবি তোলেন। এই সাহস ও প্রতিশ্রুতির জন্যই তাঁকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।”
ট্রাম্পকে কেন উৎসর্গ করলেন পুরস্কার
পুরস্কার ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মারিয়া বলেন, “আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে এই স্বীকৃতি ভেনেজ়ুয়েলার মানুষের সংগ্রামে এক নতুন অনুপ্রেরণা। স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমাদের প্রধান মিত্র হিসেবে আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প (Donald Trump), আমেরিকার জনগণ, ল্যাটিন আমেরিকার দেশসমূহ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলিকে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই পুরস্কার শুধু আমার নয়, আমার দেশের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষেরও। তাঁদের দৃঢ় মনোবলই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”



পটভূমি: কারচুপির অভিযোগ ও রাজনৈতিক লড়াই
২০১৩ সাল থেকে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন নিকোলাস মাদুরো (Nicolás Maduro)। আমেরিকা তাঁকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মানতে অস্বীকার করে আসছে। অভিযোগ, কারচুপি ও দমননীতির মাধ্যমে তিনি ক্ষমতায় টিকে আছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মারিয়াকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করতে দেওয়া হয়নি বলে বিরোধী শিবিরের দাবি। তবু দেশবাসীর মতে, সেই ভোটে “আসল বিজয়ী ছিলেন মারিয়া”।
সেই সময় থেকেই মারিয়া সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার। নোবেল কমিটি তাঁকে বর্ণনা করেছে “সাহসী এবং শান্তির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চ্যাম্পিয়ন” হিসেবে।
ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
বিশ্বের রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—অন্তত সাতটি যুদ্ধ বন্ধ করার দাবি সত্ত্বেও কেন ট্রাম্পকে (Nobel Peace Prize 2025) দেওয়া হল না। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক নীতিতে তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা কমিটির সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
তবে মারিয়া তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন, ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণের সমর্থন ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন এত দূর এগোতে পারত না। তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে।
শান্তির রাজনীতিতে এক ভিন্ন বার্তা
এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি পুরস্কার ঘোষণা নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতিতে শান্তির এক নতুন বার্তা। একদিকে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অপ্রত্যাশিত মিত্রতা—এই দুইয়ের মিশ্রণ ঘটেছে মারিয়া–ট্রাম্প অধ্যায়ে।
(Nobel Peace Prize 2025) এভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন আলাপের জন্ম দিয়েছে।
মারিয়া করিনা মাচাদোর এই নোবেল জয় এবং ট্রাম্পকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ভেনেজ়ুয়েলা ও বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ ভেনেজ়ুয়েলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কতটা গতি আনে এবং ট্রাম্প–মারিয়া জুটি ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।








