লোকসভার কার্যক্রমে ‘নিরপেক্ষতা ভাঙা’র অভিযোগ তুলে বড়সড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের পথে বিরোধীরা। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে একসঙ্গে হচ্ছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দল। সংসদীয় সূত্রে খবর, বিরোধীদের অভিযোগ—স্পিকার হিসেবে সাংবিধানিক নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করে তিনি বারবার শাসক শিবিরের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, বিশেষত বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের ক্ষেত্রে।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পর সংখ্যার নিরিখে শক্তিশালী বিরোধী জোট কার্যত সরকারকে চাপে রেখেছে। NDA ২৯৩ আসনে ক্ষমতায় ফিরলেও INDIA bloc পেয়েছে ২৩৫টি আসন। এই শক্ত সমীকরণের মধ্যেই সংসদে বারবার উত্তেজনা তৈরি হয়েছে—আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে স্পিকারের ভূমিকা।
কেন অনাস্থার পথে বিরোধীরা
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী যখনই সংসদে বক্তব্য রাখতে উঠেছেন, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপির অস্বস্তিকর ইস্যু সামনে আনতে চেয়েছেন, তখনই তাঁকে থামানো হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নিয়মের দোহাই দিয়ে বক্তৃতা বন্ধ করা হলেও শাসক দলের ক্ষেত্রে একই কঠোরতা দেখা যায়নি।
শক্ত সমীকরণ, তীব্র অভিযোগ
২০২৪-এ এনডিএ সরকার গঠনের পর থেকেই সংসদে বিরোধীদের আক্রমণ বেড়েছে। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য—সংসদের মঞ্চে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাঁদের দায়িত্ব, অথচ স্পিকারের আচরণে সেই অধিকার খর্ব হচ্ছে। তাই কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি-সহ একাধিক দল যৌথভাবে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য কী
স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সংসদীয় রাজনীতিতে বিরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনডিএ-র হলেও, বিরোধীদের লক্ষ্য স্পষ্ট—সংসদের ভেতরে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করা এবং ‘পক্ষপাতের’ অভিযোগকে সামনে আনা। এতে অধিবেশন আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



