নজরবন্দি ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের (North Bengal Development Department) আগের কাজকর্ম নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik)। তাঁর দাবি, তৃণমূল আমলে বহু সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং নথিতে কারচুপির অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ১২২টি ঠিকাদার সংস্থাকে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে নিশীথ বলেন, বহু প্রকল্পে বাস্তবে কাজ না হলেও সরকারি নথিতে কাজ সম্পূর্ণ দেখানো হয়েছে। কোথাও কয়েক বছরের মধ্যেই নির্মাণে ফাটল ধরেছে, কোথাও আবার রাস্তা সংস্কারের দাবিও শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সমস্ত অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দফতর।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১২২টি সংস্থার কাজ অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। যেসব সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে শো-কজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে কয়েকটি সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টেডও করা হয়েছে। তদন্তে আরও অনিয়ম ধরা পড়লে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
নিশীথের অভিযোগ, আগের সরকারের সময় অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই সরকারি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। এমনকি শুধু কাগজপত্র জমা দিয়েই অনেক সংস্থা কাজ পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, এবার থেকে শুধুমাত্র যোগ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সংস্থাকেই কাজ দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, এখন থেকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিটি প্রকল্পে বাধ্যতামূলকভাবে ‘কোয়ালিটি টেস্ট’ করা হবে। প্রতিটি নির্মাণকাজের ল্যাব টেস্ট এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের প্রকল্পগুলির ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।
নিশীথ প্রামাণিকের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই কাজ করছে সরকার। কোনও সংস্থা যদি ঘুষ, অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তাকে কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। দফতরে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha) বর্তমানে অন্য একটি মামলায় পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দফতরের আগের কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে ওঠা অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।



