দেশের রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সভাপতিত্বে বুধবার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি ১০,৭৮৩ কোটি টাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের ১৪টি জেলার মধ্যে মোট ৬৫৬ কিলোমিটার রেলপথে মাল্টি-ট্র্যাকিংয়ের কাজ হবে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ করা।
প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিসগড়ে রেললাইনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণ করা হবে। এর ফলে ব্যস্ত রেলপথগুলিতে ট্রেন চলাচলের সক্ষমতা বাড়বে। যাত্রী পরিষেবার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলিতে পণ্য পরিবহণ আরও দ্রুত ও স্বচ্ছন্দ করার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র।
ক্যাবিনেটের অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, খড়্গপুর থেকে ঝাড়সুগুড়া (বাগডিহি) পর্যন্ত এবং কাটনি থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত চতুর্থ রেললাইন তৈরির কাজ হবে। পাশাপাশি বিলাসপুরের উসলাপুর থেকে পেন্দ্রা রোড পর্যন্ত তৈরি করা হবে তৃতীয় লাইন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে অতিরিক্ত লাইন যুক্ত হওয়ায় ট্রেনের চাপ সামলানো সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুধু রেল যোগাযোগ নয়, পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের প্রভাব পড়তে পারে। নতুন পরিকাঠামোর ফলে বান্ধবগড় ব্যাঘ্র প্রকল্প, অমরকণ্টক মন্দির, অচানকমার ব্যাঘ্র প্রকল্প এবং রতনপুরের মহামায়া মন্দিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও ধর্মীয় গন্তব্যে পৌঁছনো আরও সহজ হতে পারে।
এই রেলপথগুলির আর একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে পণ্য পরিবহণে। সংশ্লিষ্ট রুট দিয়ে কয়লা, সিমেন্ট, লোহা এবং ইস্পাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকাঁচামাল নিয়মিত পরিবহণ করা হয়। নতুন লাইন তৈরি হলে এই রুটগুলিতে পণ্যবাহী ট্রেনের চলাচল বাড়ানো সম্ভব হবে। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে প্রতি বছর অতিরিক্ত প্রায় ২৭ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা তৈরি হবে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন, এই পরিকাঠামোগত উন্নয়নের সরাসরি ও পরোক্ষ সুফল পৌঁছবে প্রায় ৪,৭৯০টি গ্রামে। তাঁর দাবি, গোটা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫৬ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
রেললাইনের সম্প্রসারণের ফলে শুধু ট্রেনের সংখ্যা বা পণ্য পরিবহণের ক্ষমতাই বাড়বে না, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শিল্প ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেরও গতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে কয়লা, ইস্পাত ও সিমেন্টের মতো পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
সব মিলিয়ে ১০,৭৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পকে দেশের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের রেল পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে কেন্দ্র। ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হলে পাঁচ রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যাত্রী পরিষেবা, পণ্য পরিবহণ এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



