শাক্ত সাধনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি কৌশিকী অমাবস্যা (Kaushiki Amavasya)। ২০২৬ সালে এই বিশেষ অমাবস্যা পালিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা ১১ মিনিটে এবং শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। সূর্যোদয় তিথি বিবেচনায় ১০ সেপ্টেম্বরই কৌশিকী অমাবস্যার মূল দিন হিসেবে ধরা হবে। এই দিন তারাপীঠে মা তারার আরাধনা, সাধনা এবং বিশেষ ধর্মীয় আচার ঘিরে ভক্তদের সমাগমও হয়।
কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে তারাপীঠের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথা। জ্যোতিষী হিতেন্দ্র কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রচলিত বিশ্বাসে এই তিথিতেই সাধক বামাক্ষ্যাপা (Bamakhepa) তারাপীঠ মহাশ্মশানে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সেই কারণেই শাক্ত সম্প্রদায়ের কাছে এই অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তারাপীঠ মহাশ্মশানে থাকা শ্বেত শিমুল গাছের নীচে সাধনায় বসেছিলেন বামাক্ষ্যাপা। কথিত আছে, সেখানেই তিনি সিদ্ধিলাভ করেন এবং মা তারা স্বয়ং তাঁকে দর্শন দিয়েছিলেন। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই কৌশিকী অমাবস্যায় প্রতি বছর তারাপীঠে বিশেষ পুজো ও সাধনার আয়োজন করা হয়।
শাক্ত মত অনুসারে, মা তারা হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়ার দশ মহাবিদ্যার অন্যতম রূপ। কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে দেবীর কৌশিকী রূপের সঙ্গেও বিশেষ ধর্মীয় ব্যাখ্যা জড়িয়ে রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাসে, এই রূপে দেবী শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অসুরকে বধ করেছিলেন। তাই এই তিথি শক্তির আরাধনার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন ভক্তরা।
১০ সেপ্টেম্বর তারাপীঠে বিশেষ পুজো ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে। পুণ্যলাভের আশায় বহু মানুষ এই তিথিতে সংযম পালন করেন। অনেকে তিথির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপবাসও রাখেন। অবশ্য উপবাস বা কোনও বিশেষ আচার পালনের ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রচলিত পারিবারিক রীতি মেনে চলাই শ্রেয়।
মা তারার পুজোর পাশাপাশি কৌশিকী অমাবস্যায় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ ও দানেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষীদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, ভোরে গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র জলাশয়ে স্নান করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য, বস্ত্র বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী দান করার রীতিও রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অমাবস্যার এই পুণ্য তিথিতে তর্পণ ও দান করলে পূর্বপুরুষরা সন্তুষ্ট হন এবং পিতৃদোষের প্রভাবও কমে বলে মনে করা হয়।
তবে কৌশিকী অমাবস্যার সমস্ত আচারই ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত পরম্পরার অংশ। ব্যক্তি ও পরিবারভেদে পুজোর নিয়ম এবং পালনের রীতিতে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই স্থানীয় পুরোহিত বা পরিবারের প্রচলিত বিধি মেনে মা তারার আরাধনা করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।



