কলকাতার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব (Bagbazar Sarbojanin Durgotsav) ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান। পরিচালন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ টানাপোড়েনের জেরে পুজোর প্রস্তুতিতেও ছন্দপতন হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছিল, এ বছর আদৌ বাগবাজারে দুর্গাপুজো হবে কি না। তবে ৯ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। বাগবাজারে এ বারও দুর্গাপুজো হচ্ছে।
জটিলতার সূত্রপাত পরিচালন কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে ভোটের ফল কার্যত টাই হয়ে যায়। মোট ৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৬৬ জন ভোট দিয়েছিলেন। দুই পক্ষই পেয়েছিল ৩৩টি করে ভোট। ফলে কোনও পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন পরিচালন কমিটি গঠন নিয়ে তৈরি হয় অচলাবস্থা।
নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ গড়ায় কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) পর্যন্ত। আদালতের হস্তক্ষেপের পরও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা পুরোপুরি কাটেনি। এর প্রভাব পড়ে পুজোর প্রস্তুতিতেও। সময় পেরিয়ে গেলেও মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং বাগবাজারের পুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
বাগবাজারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুজোর ক্ষেত্রে প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগে। মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট সময় ধরে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে সেই পরিকল্পনায় ধাক্কা লাগে। আর সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়ে পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
নির্বাচনী বিরোধের আবহে স্থানীয় এক মহিলার পুলিশে অভিযোগের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। ভোটের সময় নির্দিষ্ট একটি পক্ষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁকে হেনস্থা ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের তদন্ত সম্পূর্ণ পৃথক আইনি বিষয় এবং তার সঙ্গে পুজো আয়োজনের সিদ্ধান্তকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুজো নিয়ে স্বস্তির খবরই সামনে এসেছে। পুজো কমিটির সদস্য তরুণ দেবনাথ জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর নতুন ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এরপরই পুজোর বাকি প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, পরিচালন কমিটি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা পুজো আয়োজনকে সাময়িকভাবে অনিশ্চিত করে তুললেও বাগবাজারের দুর্গাপুজো বাতিল হচ্ছে না। নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
এ বার বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ১০৮তম বর্ষে পা দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শহরের সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং বাগবাজারের পুজোর সঙ্গে মানুষের আবেগ—সব মিলিয়ে এই পুজো কলকাতার দুর্গোৎসবের অন্যতম পরিচিত নাম। তাই কমিটি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল গোটা শহরের।
সবশেষে তাই বিষয়টি পরিষ্কার—বাগবাজারে দুর্গাপুজো বন্ধ হচ্ছে না। ৩৩-৩৩ ভোটে তৈরি হওয়া পরিচালন কমিটির জট এবং তার জেরে প্রস্তুতিতে দেরিই মূলত অনিশ্চয়তার কারণ ছিল। আদালতের প্রক্রিয়া মেনে নতুন ১১ সদস্যের কমিটি গঠনের পর ফের পুরোদমে শুরু হবে পুজোর প্রস্তুতি।



