নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েও এক দিনের মধ্যে প্রার্থীপদ হারানো—এই অভিজ্ঞতার পর প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন নিশা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় ছড়ানো কোনও ভিডিও নয়, বরং হিন্দু পরিচয়ের কারণেই তাঁকে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি ঘোষণা করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রথম দফায় ১০টি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকায় বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল নিশা চট্টোপাধ্যায়ের নাম।


কিন্তু ঘোষণার পরের দিনই সিদ্ধান্ত বদলান হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, নিশার কিছু সোশাল মিডিয়া ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর দল মনে করেছে, তাঁকে প্রার্থী করা উচিত নয়। এই ব্যাখ্যাতেই নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়।
মঙ্গলবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে নিশা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “হঠাৎ করে আমার ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চারপাশে নানা কথা বলা হচ্ছে। হুমায়ুন চাচাই আমাকে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। এখন আচমকা সব বদলে গেল।” তাঁর দাবি, ভিডিও আসল কারণ নয়। নিশার কথায়, “আমি হিন্দু বলেই বাদ পড়েছি। যদি দলটা সত্যিই সেকুলার হত, তাহলে কি এমন হত? আমি তো বাবরি আন্দোলনের পাশেও ছিলাম—তবু কেন আমাকে সরানো হল?”
নিশা আরও অভিযোগ করেন, প্রার্থীপদ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর তিনি সামাজিক হেনস্তার মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দায় ব্যক্তিগত চরিত্রে চাপানো অনৈতিক এবং নারীর মর্যাদার প্রশ্নে গুরুতর।


অন্যদিকে, জনতা উন্নয়ন পার্টির তরফে এখনও পর্যন্ত ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। দলের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন দলের যাত্রাপথের শুরুতেই প্রার্থী নির্বাচন, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং নারীর সম্মান—এই তিনটি প্রশ্ন একসঙ্গে সামনে চলে এসেছে। আগামী দিনে হুমায়ুন কবীর ও তাঁর দলের অবস্থান কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।








