নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ ঘিরে রাজ্যে উদ্বেগ চরমে। দুই আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে কারা এসেছিলেন—তা খুঁজে বের করতে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছিল কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং। মঙ্গলবারের মধ্যেই প্রশাসনের হাতে এসেছে ১২০ জনের তালিকা। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার বাড়ি, নদিয়ার বাড়ি, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতাল—এই সব জায়গা মিলিয়েই ওই দুই নার্সের সংস্পর্শে এসেছিলেন মোট ১২০ জন। সকলকেই ৩ সপ্তাহের জন্য কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে।
এই ১২০ জনের নিপা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার জন্য সুষুম্নারস, রক্ত, মূত্র ও গলার সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্পর্শের পরিধি আরও বাড়তে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত অনুসন্ধানও চলছে।


বাড়ি সিল, স্বাস্থ্যকর্মীরাও কোয়ারান্টিনে
এদিকে, পূর্ব বর্ধমান-এর মঙ্গলকোটে এক আক্রান্ত নার্সের বাড়ি চিহ্নিত করে সিল করা হয়েছে। লাগোয়া এলাকা স্যানিটাইজ় করা হয়েছে। ওই নার্স অসুস্থ হওয়ার পর স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় যাঁরা তাঁর সংস্পর্শে এসেছিলেন—তাঁদেরও কোয়ারান্টিনে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ৪ জন নার্স, ২ জন চিকিৎসক এবং ১ জন অ্যাম্বুল্যান্স চালক। সকলের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
রাজ্য–কেন্দ্র সমন্বয়ে জোরদার নজরদারি
নিপা সংক্রমণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য—দু’পক্ষই সতর্ক। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িস কন্ট্রোল (NCDC) ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। গঠন করা হয়েছে ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম, যা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।
এই টিমে রয়েছেন কল্যাণী AIIMS, AIIMS Bhubaneswar এবং NIV Pune-এর চিকিৎসক-সহ মোট ৫ জন বিশেষজ্ঞ। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণে তাঁরা মাঠে নেমেছেন।


এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। কেন্দ্র–রাজ্য সমন্বয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আতঙ্ক নয়—কিন্তু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাজ্য প্রশাসন। কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, কোয়ারান্টিন ও পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতেই জোরদার পদক্ষেপ।







