ভোটের মুখে উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। তার মধ্যেই নতুন করে বিতর্কের আগুন—কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা National Investigation Agency (এনআইএ) নোটিস পাঠাল ৪৩ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে, রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রাজ্যে আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে এমন পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, নন্দীগ্রামে ভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত তৃণমূল কর্মীদেরই বেছে বেছে নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও বিরোধী শিবিরের দাবি, তদন্তের প্রয়োজনে এনআইএ যে কাউকেই তলব করতে পারে—এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।


এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আবারও হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। একদিকে শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র কর—দু’পক্ষই এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে এনআইএ নোটিস নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তৃণমূল নেতা—যেমন বাপ্পাদিত্য গর্গ, সামসুল ইসলাম-সহ পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধিদের কাছে এই নোটিস পৌঁছেছে। এমনকি বুথ স্তরের কর্মীদের বাড়িতেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। নোটিসে আগামী ১৭ এপ্রিল কলকাতার এনআইএ দপ্তরে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটের আগে দলকে দুর্বল করতেই এই পদক্ষেপ। তাদের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি সুজিত কুমার রায় বলেন, “যারা ভোটের কাজে যুক্ত, তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। আমরা এই নোটিস সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”


অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এনআইএ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তের প্রয়োজনে যে কাউকে নোটিস পাঠানো হতে পারে, এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং তৃণমূলই রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এই বিষয়টি ব্যবহার করছে বলে দাবি তাদের।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে নন্দীগ্রামে উত্তেজনা আরও বাড়ল। এনআইএ নোটিস ঘিরে শুরু হওয়া এই নতুন বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।









