ফের বাড়ছে ভোটেকোশীর জল, নেপালের ৪ জেলায় সতর্কতা! মৃত ৭৩৪, নিখোঁজ ২,৪৯৮

ভয়াবহ হড়পা বানের ক্ষত এখনও শুকোয়নি, তার মধ্যেই ভোটেকোশী নদীতে ফের বাড়ছে জল। নেপালের চার জেলায় সতর্কতা, মৃতের সংখ্যা ৭৩৪ এবং নিখোঁজ ২,৪৯৮।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও বন্যার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভোটেকোশী নদীর জলস্তর। রবিবার সকালে নদীতে জল বাড়তে শুরু করায় রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং ও চিতোয়ান—এই চার জেলায় সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দলগুলিকেও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের রবিবার সকাল ৯টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৩৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ২,৪৯৮। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়া বহু ভারতীয়ের খোঁজ এখনও মেলেনি।

ভোটেকোশী নদীর পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার সকালে সতর্কবার্তা জারি করে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নদীতে জলস্তর ফের বাড়ছে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

যে চার জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ হড়পা বানেও সেগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং এবং চিতোয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও বিপর্যয়ের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। নতুন করে নদীর জল বাড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

বুধবার সকালে তিব্বতের কাছাকাছি এলাকায় হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার পর নেপালের নিচু উপত্যকাগুলির দিকে আচমকা নেমে আসে জল ও কাদামাটির প্রবল স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে একের পর এক গ্রাম, বাড়িঘর, সেতু ও রাস্তাঘাট ভেসে যায়। বহু এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং জনবসতির বিস্তীর্ণ অংশ পুরু কাদায় ঢেকে যায়।

বিপর্যয়ের পর থেকেই উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ ও জমে থাকা কাদার স্তর সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধান চালাচ্ছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চলছে দেহ উদ্ধারের কাজ। তবে নতুন করে ভোটেকোশীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

বিপর্যয়ের শুরুর দিকে বিদেশি সাহায্য গ্রহণে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল নেপাল সরকার। ভারত-সহ একাধিক দেশ উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও প্রথমে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিদেশি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কাঠমান্ডু।

নেপাল সরকারের সম্মতির পর ভারত থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যা ও হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণসামগ্রীও পাঠিয়েছে ভারত সরকার। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে ভোটেকোশী নদী দিয়ে ফের প্রবল স্রোত নেমে আসার আশঙ্কা আগেই জানিয়েছিল চিন। বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ ভেঙে পাহাড়ি এলাকায় একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছে। সেই জলাধার আরও ভরে গেলে জল উপচে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ফের আচমকা বিপুল জল নীচের দিকে নেমে এসে নতুন বিপর্যয় তৈরি করতে পারে।

ফলে একদিকে ৭৩৪ জনের মৃত্যুর পরও নিখোঁজদের সন্ধান চলছে, অন্যদিকে নতুন করে নদীর জল বাড়ায় তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় দফার আশঙ্কা। ঝুঁকি সত্ত্বেও উদ্ধারকারীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে নেপাল প্রশাসন এবং আগামী কয়েক ঘণ্টা ভোটেকোশী নদীর জলস্তরই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর